ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বালু মহল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-২০ - SHOMOYSANGBAD.COM

শিরোনাম

Wednesday, May 15, 2019

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বালু মহল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-২০


ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চন্ডিবিলা গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রæপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এসময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ৯ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চন্ডিবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক এসএম ফারুক হোসেন ও বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে মধুমতি নদীর বালু মহলের ইজারাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়। সংকটাপন্ন আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
হামলায় আহত রাখাগাছি গ্রামের সাহেব আলী বলেন, আমরা ৫ জন সকালে চন্ডিবিলা গ্রামে কাজী রফিউদ্দিনের বাড়ির সামনে দাড়িয়েছিলাম। এসময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন অতির্কতভাবে এসে আমাদের প্রথমে পিটিয়ে সারা শরীর থেতলে দেয়। এরপর শড়কি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া বলেন, আমরা বালু মহলের ইজারা পায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে। এরপর থেকে বালু উত্তোলনে গেলে বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বাধা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। যখনই আমরা বালু উত্তোলন করতে যায় তখনই তারা বাধা প্রদান করে গন্ডগোল বাধায়। তিনি বলেন বালু মহলের ইজারা তিনি না পাওযায় তিনি আমাদের উপর চরম নাখোশ। এরআগে সোমবার রাতে আমার লোকদের উপর ঘোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেনের লোকেরা হামলা চালিয়ে আহত করে বলে তিনি জানান।
ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক এসএম ফারুক হোসেন বলেন, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়ার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিশোঠা মানুষদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
এব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘোষপুর ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ঘোষপুর ইউনিয়নের বালুমহাল ইজারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চাঙ্গা হয়ে উঠে। মাসখানেক আগেও দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭ জন আহত হন।

No comments:

Post a Comment