সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর থেকে :
ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর কাজল রানী হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন ও চার আসামীকে গ্রেফতার করেছে মধুখালী থানা পুলিশ।
গত ২২ অক্টোবর বুধবার সারাদিন অভিযান চালিয়ে ঢাকার গুলশান ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হত্যা ও ধর্ষনের সাথে জরিত চার আসামী চুন্নু শিকদার (২৮), নাজমুল (৩২), ইসলাম(৩২) ও আতিয়ার (৪২)কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান জানান, গত ১৬ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রাজধরপুর গ্রামের একটি কলা বাগান থেকে কাজল রেখা রানী বিশ্বাস(৩৫) নামে এক নারী জুট মিল শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর পুলিশ মোবাইলের কল লিষ্ট ধরে বুধবার সারাদিন অভিযান চালিয়ে ঢাকার গুলশান ও মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হত্যা ও ধর্ষনের সাথে জরিত চার আসামীকে গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, আসামীদের মধ্যে নসিমন চালক চুন্নু শিকদার ওরফে ঝড়–র সাথে কাজল রানীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক থেকে সে ১৫ অক্টোবর মধ্যে রাতে কাজল রানীকে ডেকে নেয়। এরপর অপর আসামীরা এক হয়ে কাজল রানীকে পালাক্রমে ধর্ষন শেষে হত্যা করে। এঘটনার পর নিহতের মা কল্যানী রানী বিশ্বাস বাদি হয়ে ১৬ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাত নাম দিয়ে একটি হত্যা মামলা করে দায়ের করে।
এদিকে বুধবার দুপুরে গ্রেফতার হওয়া ৪ আসামীকে ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫নং আমলি আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যা ও ধর্ষনের কথা স্বীকার করে। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য গত ১৫ অক্টোবর রাতে কাজল রানী আড়পাড়া প্রাইড জুট মিলে রাতে কাজে যাবে বলে রাত দুইটার সময় ঘড় থেকে বের হয়। এরপর পরের দিন ১৬ অক্টোবর তার বাড়ীর পাশের একটি কলা বাগানে তার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে।
নিহতের বাড়ী মাগুড়া জেলার শ্রীপুর থানার বড়ালিদাহ গ্রামে। সে ওই গ্রামের রামগোপাল বিশ্বাসের মেয়ে। সে আড়পাড়া প্রাইড জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার দুটি সন্তানও রয়েছে।
