ভোলা সংবাদাতাঃ ভোলা চরফ্যাশনে অবশেষে চাঞ্চল্যকর দগ্ধ মাথাবিহীন মৃতদেহ দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শেষ পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্রওগ উদ্ধার করতে হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করেছে। ধীরে ধীরে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। বাকী ২ আসামীকে খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ। তাদেরকে খুঁজে পেলেই চাঞ্চল্যকর দগ্ধ মাথাবিহীন জোড়া খুনের পুরো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেসব্রিফিং করবেন ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোঃ কায়সার আহমেদ।
পুলিশ জানায়, গত ৮ এপ্রিল আছলামপুর ইউনিয়নের সুন্দরী ব্রিজের সংলগ্ন ভুঁইয়াদের ছাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মাথা বিহীন দগ্ধ লাশ দুটি চরফ্যাশন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু দুই ভাই তপন শীল (৫২) ও দুলাল শীলের (৫৫)। তাদের বাবার নাম উৎকণ্ঠ শীল (বেলার বাপ নামে পরিচিত)। তারা ওই দিন থেিেক নিখোঁজ ছিলেন।
বৃহস্পতিবার জোড়াখুনের মুল হোতা সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার সময় উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক হাজার গজ উত্তরে ফরাজি বাড়ির মহিবুল্লাহ’র বাথরুমের ট্যাংকি থেকে দগ্ধ জোড়া খুনের মাথা দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারাল অস্ত্র আজ সকালে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্বৃত্তরা এই বাগানে গলা কেটে দুই যুবককে হত্যা করে লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় মাথা বিহীন পোড়া লাশ দুটি দেখে চরফ্যাসন থানার পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে ভোলায় দাফন করেন৷
এ ঘটনায় এস আই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ধারনা করা হচ্ছে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।
চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন মিয়া জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারী-পুরুষসহ ৭ জন কে আটক করা হয়েছে। লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মাথা দুটি ডিএন এ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। খুবই শ্রিঘ্রই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল মতিন মোল্লা জানান, ৩নং ওয়ার্ডের (বেলার বাপ নামে পরিচিত) উৎকণ্ঠ শীলের দু‘পুত্র তপন শীল(৫২) ও দুলাল শীল (৫৫) নিখোঁজ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে এ লাশ দুটি তাদের।
স্থানীয়রা জানান, তার পরিবার ভারত বসবাস করত। এই সহদোর দুই ভাই পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডে ৫৬শতক জমি বিক্রি করেছে আসলামপুর ৪নং ওয়ার্ডের আবু জাফর ওরফে জাফর ফরাজীগংদের কাছে। জমির লেন-দেন নিয়ে এই ঘটনাটি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারনা।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল মিজানুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্ধেহে বৃহম্পতিবার বিকালে মূল হোতা সিরাজুল কে আটকের পর তার দেয়া তথ্যাঅনুযায়ী সন্ধ্যায় আবু জাফর ফরাজী ওরফে বাচ্চা ফরাজী(৬২) ও তার স্ত্রী, মো. আবুল কাশেম(২২), হেলাল উদ্দিন(২৫) ও আলী আজগর(৩৫)সহ ৭জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোঃ কায়সার আহমেদ বলেন, ভোলার চরফ্যাসনের চাঞ্চল্যকর দগ্ধ মাথাবিহীন মৃতদেহ দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি আরও বলেন, ওই হত্যাকান্ডের সাথে আরও ২ আসামী জড়িত। তাদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ। তাদেরকে খুঁজে পেলেই চাঞ্চল্যকর দগ্ধ মাথাবিহীন জোড়া খুনের পুরো বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেসব্রিফিং করা হবে বলে জানান ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোঃ কায়সার আহমেদ।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলার আছলামপুর ইউনিয়নের সুন্দরিখাল এলাকার অদূরে ভুইয়া বাড়ির নির্জন বাগান থেকে মাথাবিহীন দুটি দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

