সময় সংবাদ ডেস্কঃ
প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় এবং বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি করায় পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা দাসকে হত্যা করে পার্থ মণ্ডল।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় রাতে বিভিন্ন স্থানে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে থাকে। পরদিন শুক্রবার একটি সবজি বাগানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও নখের দাগ ছিল। এ ঘটনায় মৃতের বাবা শান্তিরঞ্জন দাস বাদী হয়ে একই গ্রামের পার্থ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার রাতেই মামলা করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পার্থ মণ্ডলকে সাতক্ষীরার বৈকারী সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ হত্যার কথা স্বীকার করে।
এ ঘটনায় রোববার সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পার্থ ও পূর্ণির। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পূর্ণিমার পরিবারকে জানানো হলে তারা বিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। এরপর পূর্ণিমার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখে পার্থ। যোগাযোগের জন্য পূর্ণিমাকে মোবাইল ফোন সরবরাহ করে সে। পূর্ণিমার পরিবারের চাপে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এরপর পার্থ পূর্ণিমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে কৌশলে নতুন ভাবে সম্পর্ক শুরু করে।
একপর্যয়ে পূর্ণিমাকে বৃহস্পতিবার ডেকে নিয়ে যায় একটি নির্জন স্থানে। সেখানে গিয়ে বৈদ্যুতিক তার গলায় পেঁচিয়ে অচেতন করে। পরে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর তাকে পুনরায় গলাটিপে হত্যা করে পার্থ মণ্ডল।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত রোমহর্ষক যা ঘৃর্ণিত ও নিচু মনের পরিচয় দেয়। পার্থ মণ্ডলকে আমরা আদালতে পাঠাব। বিচারক তাকে বিচারের আওতায় আনবেন। আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িত সব আলামত সংগ্রহ করেছি। সেগুলোও আদালতে পাঠানো হবে। আশা করি দেশের প্রচালিত ধারা মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

