মধুখালী শাহ্ হাবিব (আলিম) মাদ্রাসার প্রবেশ মুখেই টয়লেট পাশে শহীদ মিনার নির্মান - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

মধুখালী শাহ্ হাবিব (আলিম) মাদ্রাসার প্রবেশ মুখেই টয়লেট পাশে শহীদ মিনার নির্মান

মধুখালী শাহ্ হাবিব (আলিম) মাদ্রাসার প্রবেশ মুখেই টয়লেট পাশে শহীদ মিনার নির্মান
মধুখালী শাহ্ হাবিব (আলিম) মাদ্রাসার প্রবেশ মুখেই টয়লেট পাশে শহীদ মিনার নির্মান

 

আরাফাত হোসেন রাজিব, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

পৃথিবীতে ভাষার জন্য শুধুমাত্র বাঙালি জাতির প্রাণ দেওয়ার নজির আছে। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার দাবীতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এদেশের দামাল ছেলেরা। পরবর্তীতে তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। শুধু জাতীয় নয় আন্তর্জাতিক ভাবেও সেই দিনটিকে অর্থাৎ ২১শে ফেব্রæয়ারিকে ঘোষণা করা হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। কিন্তু ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুখালী শাহ্ হাবিব (আলিম) মাদ্রাসার প্রবেশ মুখেই টয়লেটের পাশে শহীদ মিনার নির্মান করেছেন কর্তৃপক্ষ! ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন জায়গায় ১৯৯০ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে সরকারি অর্থায়নে টয়লেট, বাথরুমসহ মাদ্রাসার দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। প্রথম দিকে মাদ্রাসাটিতে কোন শহীদ মিনার না থাকলেও কয়েক বছর পূর্বে দ্বিতল ভবনের নীচতলার টয়লেট সংলগ্ন জায়গায় এই শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয়।


সরেজমিনে দেখা যায় পৌরসভার মাঝে মনোরম পরিবেশে পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে মাদ্রাসাটি গড়ে উঠলেও অজ্ঞাত কারণে শহীদ মিনারটি নির্মান করা হয় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত টয়লেট থেকে মাত্র তিন ফুট (দুই হাত) দূরত্বে! অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকা শহীদ মিনারটির নিচের অংশ ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ; পাদদেশের পুরো অংশ বুনো কচুর দখলে। শহীদ মিনার নির্মানে এমন স্থান নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমি চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার খুব বেশি জানা নাই তবে পূর্বের অধ্যক্ষ বিষয়টি নিয়ে একবার আলোচনা করেছিলেন বলে জানি। তিনি আরও বলেন এই বিষয়টি আমি আগামী গভর্নিং বডির আলোচনা সভায় তুলবো। টয়লেটের পাশে শহীদ মিনার নির্মানের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পারমিস সুলতানা বলেন, আমি জানতাম না টয়লেটটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোপূর্বে টয়লেটটি অপসারণের জন্য বলেছিলাম। উত্তর দিকে নতুন ভবনের সাথে টয়লেট বাথরুম থাকায় পুরাতন টয়লেটের কোন প্রয়োজনীয়তা নাই। আমি এখনই টয়লেটটি ভেঙে ফেলার জন্য পূনরায় নির্দেশনা দিচ্ছি। বিষয়টি নিঃসন্দেহ বেদনাদায়ক বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর, বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের অনেক বড় বড় কর্মকর্তা ঝটিকা সফরে আসেন কিন্তু প্রবেশ মুখে শহীদ মিনারের এতো বড় অবমাননা দৃষ্টিগোচর না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বিষয়টি গর্হিত অপরাধ বলেও মনে করেন।       


Post Top Ad

Responsive Ads Here