জেলা প্রতিনিধিঃ
দ্রুতগতির এক কাভার্ডভ্যানের চাকার নিচে পড়েছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী আবদুল মালেক মোল্লা। কিন্তু সেই কাভার্ডভ্যান তখন গতিরোধ না করেই আহত আবদুল মালেককে কিছুদূর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে তাঁর বাঁ পায়ের নিচের অংশ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় গতকাল রাতে আবদুল মালেককে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবদুল মালেক রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার আনসের আলী মোল্লার ছেলে এবং শহরের একটি ইলেকট্রনিকস দোকানের মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল বাকেনসহ কয়েকজন জানান, গতকাল দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় তারা বিকট শব্দ শুনতে পান। তখনই তারা সড়কে একটি মোটরসাইকেল ও আরোহীকে সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন। রাজবাড়ীগামী দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান আবদুল মালেকের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় আবদুল মালেকের বাঁ পা কাভার্ডভ্যানের চাকার নিচে চলে যায়। কিন্তু কাভার্ডভ্যানটি তখন না থেমে আহত মালেক মোল্লাকে টানতে টানতে কিছুদূর নিয়ে যায়। পরে তার বাঁ পায়ের নিচের অংশ ভেঙে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সড়কে পড়ে যায়।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত তাকে ভ্যানে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে রাতেই তিনি মারা যান।
গোয়ালন্দ মোড় আহ্লাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলটি দৌলতদিয়া ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। আর কাভার্ডভ্যানটি রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। মোটরসাইকেল আরোহী হঠাৎ উল্টো পথে মোড় নেয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত ১০টার দিকে সুরতহাল শেষে পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছেন।

