ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের যোদ্ধা বিপুল ঘোষকে নেতৃত্বে দেখতে চায় তৃণমূল - SHOMOYSANGBAD.COM

শিরোনাম

Friday, October 22, 2021

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের যোদ্ধা বিপুল ঘোষকে নেতৃত্বে দেখতে চায় তৃণমূল



 
নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরিদপুর :   
ফরিদপুরের আওয়ামী লীগের ইতিহাসে লড়াই-সংগ্রামের যে কয়জন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন তাদের অন্যতম একজন সাবেক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিপুল ঘোষ। ১৯৭৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বড় কোন দায়িত্ব পান প্রথম। দায়িত্ব পালন করা সময়ে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ১৯৭৬ সালের ১লা ফেব্রæয়ারী তাকে আটক করা হয়। এসময় একটানা ৪৭ মাস তাকে থাকতে হয় ফরিদপুর ও যশোর জেলে। জেল জীবন কালীন সময়ে তার উপর চালানো হয় শাররীক ও মানুষিক ভাবে নির্যাতন। কারাগারে তাকে কারেন্টের শক পর্যন্ত দেওয়া হতো প্রতিনিয়ত। যশোর কারাগারে বিপুল ঘোষকে এমন সেলে রাখা হয়েছিলো শীতের দিনে ঠান্ডা বাতাস আসলেও গরমের দিনে কোনো আলো বাতাস আসতো না। 


তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে ফরিদপুর কারাগারে ১১ মাস জেলে কাটান এক কক্ষে। এরপরে ১৯৮০ সালে তাকে মুক্তি দেয়া হলে জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক করা হয় দল থেকে। এসময় একই সাথে ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

  
এরপর ১৯৮২/৮৩ সালের দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি হন সাধারন সম্পাদক প্রার্থী। সেখানে ফরিদপুরের আওয়ামীলীগের বীর সেনা ইমামউদ্দিন আহমেদ ও কেএম নুরনবী হন একটি প্যানেল। অপর প্যানেলটি হয় ফিরোজ সাহেব ও বিপুল ঘোষ একটি প্যানেল। 


সম্মেলনে সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে আসেন সম্মেলন করতে। দুই পক্ষই অনড় থাকায় ভোট হয় পদের বিপরীতে। এতে বিপুল ঘোষের প্যানেল পায় ৯টি ভোটের মধ্যে ৭টি ভোট। পরে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত সালাউদ্দিন ইউসুফ সমঝোতায় বিপুল ঘোষকে ১নং যুগ্ম সম্পাদক বানানো হয়।


বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্ণেল ফারুককে ফরিদপুর নামক জনপদ থেকে প্রতিরোধ করা হয় বিপুল ঘোষ এর নেতৃত্বে। তার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ বিরোধী সমাবেশ করতে আসা ড. কামাল হোসেনকে রুখে দেন দলের বিশেষ নির্দেশে।  


স্বৈরচার সরকার, বিএনপি ও জামাত সরকার ক্ষমতা থাকা সময়ে কঠোর আন্দোলনে ভূমিকা নেয়া বিপুল ঘোষ ও প্রয়াত হাসিবুল হাসান লাভলু এখনও ফরিদপুর অঞ্চলের এক মহান নাম। তাদের দুজনের দলের প্রতি অগাধ ত্যাগ ও দূদিনের সারথী বলা হয়ে থাকে।  


১৯৯২ সালের জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয় এতে বিপুল ঘোষ বিনা প্রতিদ্ধন্দিতায় দলের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের একটানা ১৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সভাপতি মৃত্যু বরন করায় কমিটি ভেঙ্গে গেলে ২০০৫ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মরহুম ভাষা সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ইমাম উদ্দিন আহমাদের সাথে। সে বছরই হয় জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন। এতে তিনি দলের সভাপতি পদে প্রতিদ্ধন্দিতা করলে দলের হাইকমান্ড কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন তাকে। বিপুল ঘোষ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় পথ চলেছেন দুঃসাহসিকভাবে ২০১২ সাল পর্যন্ত। 


ফরিদপুরে আওয়ামীলীগের দুঃসময় দলকে সুসংগঠিত করা আর কর্মী তৈরীর দুঃসাহসিক যুদ্ধে নিজেকে নিবেদিত করেছেন সব সময়ে। ১৯৭৬ সালের পর থেকে ১৭বার কারাবরন করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায়। তিনি আর তার বড় ভ্রাতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বিভূতি ভূষণ ঘোষ দুজনই আওয়ামী লীগের দুরদিনের কান্ডারী। বার বার কারাবরন, আর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের জন্য স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তারা। তাদেরকে হত্যা করার নক্সা করা হয়েছে বার বার। হামলাও হয়েছে বেশ কয়েকবার তাদের উপর। 


বর্নাঢ্যময় এই রাজনীতিবীদ জননেতা বিপুল ঘোষ কে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেখতে চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ।


২০০৮ সালে দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে মূল্যহীন করে রাখেন একটি মহল। এবার জেলার আওয়ামী কর্মি সমর্থকরা তার মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন দলনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। কর্মিকে চেনে না এমন নেতা আর তারা দেখতে চান না ফরিদপুরে। কর্মির নেতাকে মুল্যায়ন করার দাবি জেলার আওয়ামী তৃনমূলের নেতা কর্মিদের।

No comments:

Post a Comment