ভাঙ্গায় চিরকুট লিখে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, মার্চ ১১, ২০২২

ভাঙ্গায় চিরকুট লিখে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা | সময় সংবাদ

ভাঙ্গায় চিরকুট লিখে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা | সময় সংবাদ


নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুরঃ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রেমিককে দায়ী করে একটি চিরকুট লিখে আতহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন প্রেমিকা।  এ ঘটনায় ওই প্রেমিক যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিাযোগ এনে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহত ওই তরুনীর বাবা মদন সুত্রধর।  অতি আদরের ছোট সন্তানের এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর শোক কোন ভাবেই মানতে পারছেনা হতদরিদ্র পরিবারটি।   অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত ওই প্রেমিক যুবকের পরিবার এ ঘটনার আপোষ-মিমাংসার জন্য মরিয়া হয়ে দারে দারে ঘুরছেন। এ ঘটনার ধামাচাপার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল  ওই তরুনীর পরিবারকে মিমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।


ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী বৃহষ্পতিবার ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর গ্রামে। নিহত সুমি রানী সুত্রধর (২১) ওই গ্রামের মদন সুত্রধরের মেয়ে। সে এ বছর ভাঙ্গা মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসচি পরিক্ষায় পাশ করেছিলো। 


নিহত সুমির চিরকুট থেকে জানা যায়, আমি সুমা সুত্রধর বলছি যে আমার মৃত্যুর জন্য  সুজিত দায়। আমি নিজের ইচ্ছে এই পৃথিবীর ছেড়ে চলে যাচ্ছি না।  আমি আমার পরিবারের প্রতিটা ব্যাক্তিকে অনেক ভালোবাসি। তোমরা পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আমার মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি !  আই লাভ মাই ফ্যামেলী! আমার মৃত্যুর জন্য সুজিত রায় দায়। চার বছর আমার সাথে সম্পর্ক থাকা সত্বেও আমাকে ঠকিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবে। আমি সুমা সুত্রধর বলছি যে  আমি সুজিতের শাস্তি চাই। আমার মৃত্যুর জন্য সুজিত রায় দায়। আমর সাথে সুজিতের পরোক্ষভাবে গভীর সম্পর্ক থাকা সত্বেও আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করবে কথা ভাবে কি ভাবে ? আমরা স্বামী-স্ত্রী।  সুজিত আমার সিথিতে সিদুর পরিয়ে দিছে।


পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে, গত বুধবার রাত সোয়া ১০ টার দিকে সুমি তার পরিবারের সবাইকে রাতের খাবার খাইয়ে নিজের শোবার ঘরে যায়। সুমি রাতের খাবার না খাওয়ায় তার বাবা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় তার শরীর ভালো না সে পরে খাবে। সবাইকে শোবার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে বলে সুমি। বৃহষ্পতিবার সকালে সুমির ঘুম থেকে দেরীতে উঠায় তার বাবা ঘর ঝাড়– দিচ্ছিলো একপর্যায়ে সুমিকে ডাকাডাকি করতে থাকে। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সুমির শোবার ঘরে ঢুকে তার বাবা। এসময় সুমিকে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় সে। পরে তার ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে সুমির ঝুলন্ত মরদেহটি ঘরের আড়া থেকে নিচে নামিয়ে রাখে।


সুমির পরিবার জানায়, সুমির মেজ বোনের দিক থেকে দুর সম্পর্কের বিয়াই হয় সুজিত রায়। তার বাড়ি নগরকান্দা থানার ছাগলদী গ্রামে। সে সেনাবাহিনীতে ঢাকায় চাকুরী করে। সুমির সঙ্গে সুজিতের প্রায় ৪ বছর ধরে পেমের সম্পর্ক চলছিলো। তারা গোপনে সিদুর পরে বিয়ে করায় সুজিতের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। যার কারনে মেয়েটি দির্ঘদীন বিষন্নতায় ভুগছিলো। সুমির বড় বোন নমি সুত্রধর কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, গত পাঁচ মাস আগে সদ্য তার মা’ মারা গেছেন। তার আপন মামার হটাৎ মৃত্যুর খবর শুনে তার মা’ গিয়েছিলেন তার ভাইকে দেখতে। সেখানে গোবিন্দের মামার সৎকারের সময় চিতার আগুনের পাশেই তার মায়ের হটাৎ স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছিলো। আজ তার ছোট বোনের এমন মৃত্যুতে কোন ভাবেই মানতে পারছেন না তারা। 


সুমির বড় ভাই গোবিন্দ চন্দ্র ও প্রতিবেশীরা জানায়, বাড়িটিতে শোকের পরে শোক বইছে। আরেকদিকে সুজিতকে তার পরিবার অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিসয়টি ধামাচাপার জন্য সুমির পরিবারকে নানা ভাবে ভয়-ভিতি দেখানো হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে ভাঙ্গা পৌরসভায় সুমির পরিবারকে ডাকা হয়েছিলো কিছু নগত অর্থের বিনিময়ে এ ঘটনার মিমাংসার প্রস্তাব দিয়ে। কিন্তু সুমির পরিবার তাতে রাজি হয় নি।। শালিষের প্রস্তাবকারীরা তাদেরকে  ১০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার মিমাংসার জন্য বলেছেন।  


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তাহসীন জানায়, সুমির লেখা একটি চিরকুটে সে সুজিতের নাম লিখেছে। সুমির সঙ্গে সুজিতের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সেই সম্পর্ক সুজিত অস্বিকার করায় সুমি আতহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে সেই চিরকুটে। বিসয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসার বিসয়ে তিনি বলেন, তিনি শুনেছেন বিবাদী পক্ষের লোকজন একটি রাজনৈতিক মহল নিয়ে গত তিন দিন আগে ভাঙ্গা পৌরসভায় মিমাংসার জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ভাঙ্গা থানায় মিমাংসার বিসয়ে কোন পক্ষই তাদের জানায় নি। তিনি আরও বলেন, এ মামলার আসামীকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


মোঃরিফাত ইসলাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here