ঠাকুরগাঁওয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাবে স্কুল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাবে স্কুল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

ঠাকুরগাঁওয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাবে স্কুল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা
ঠাকুরগাঁওয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাবে স্কুল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা



জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দক্ষিণ চাড়োল পতিলা ভাষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাবে সংকটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ১৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৪ জন মুসলিম হলেও গত ৭ মাস ধরে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের কোনো ক্লাস হচ্ছে না। এতে করে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে স্কুল ছেড়ে পাশের মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে।


বিদ্যালয়টিতে ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সবাই হিন্দু ধর্মের। প্রধান শিক্ষকসহ কেউই আরবি বা ইসলাম শিক্ষা করাতে পারছেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে পিছিয়ে পড়ছে।


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম বলেন, “ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর জন্য স্যার নেই। যিনি ছিলেন, তিনি চলে গেছেন ৭ মাস হলো।”


অন্যদিকে পঞ্চম শ্রেণির আতিক হাসান আহাদ জানান, “তিন মাস পর ফাইনাল পরীক্ষা। পড়াশোনা না করলে প্রশ্নের উত্তর লিখবো কী?”


অভিভাবক খাদেমুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হলেও ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার মতো শিক্ষক নেই। পরিবেশেরও একটা ব্যাপার আছে। কমপক্ষে ৪ জন মুসলিম শিক্ষক প্রয়োজন।”


তাদের অভিযোগ-বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সুবিধা ও অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেক শিক্ষকই বাড়ির পাশে পোস্টিং নিয়েছেন, অথচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখদেব চন্দ্র সিংহ বলেন, “আমরা একাধিকবার শিক্ষা অফিসে মুসলিম শিক্ষকের জন্য জানিয়েছি। কিন্তু আমাদেরকেই স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করতে বলছে। ইতোমধ্যে এক সপ্তাহে ৩ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়েছে।”


উপজেলা শিক্ষা অফিসার অতুল চন্দ্র সিনহা জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। চেষ্টা করছি আশপাশের কোনো শিক্ষককে ডেপুটেশনে দেওয়া যায় কিনা।” তবে শিক্ষক বদলি অনলাইনে হয় দাবি করে তিনি বলেন, “এখানে হিন্দু-মুসলিম আলাদাভাবে বলার সুযোগ নেই।”


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বদলি সম্ভব নয়। প্রতিটি বিদ্যালয় মাসিক রিপোর্ট জমা দেয় অফিসে। এ অবস্থায় ৯৪ জন মুসলিম শিক্ষার্থীর জন্য একজন ইসলাম শিক্ষকের ব্যবস্থা না হওয়া স্পষ্ট অবহেলার উদাহরণ বলে তারা মনে করেন।


Post Top Ad

Responsive Ads Here