![]() |
| শেষ কর্মদিবসেই বৃদ্ধাকে ঘর উপহার দিলেন বিদায়ী ইউএনও |
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
বদলিজনিত কারণে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক অসহায় ঘরহীন বৃদ্ধাকে সেমিপাকা দৃষ্টিনন্দন ঘর উপহার দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। শেষ কর্মদিবসেই তার এমন উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গোপালপুর ইউনিয়নের পবনবেগ গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী সূর্য্য বেগম প্রায় চল্লিশ বছর আগে স্বামী হারান। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জরাজীর্ণ একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। শীত-বৃষ্টি আর নানাবিধ কষ্ট তাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছিল। সেই অসহায় জীবনে আলো জ্বাললেন মানবিক ইউএনও রাসেল ইকবাল।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টায়—যা ছিল তার আলফাডাঙ্গায় শেষ কর্মদিবস—সূর্য্য বেগমের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরটি হস্তান্তর করেন তিনি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘরটিতে রয়েছে সবুজ টিনের ছাউনি, দুইটি কক্ষ, বারান্দা, পৃথক ওয়াশরুম, বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইট, ফ্যান এবং দুইটি খাট। পাশাপাশি বৃদ্ধার হাতে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্রও তুলে দেন ইউএনও। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত।
স্থানীয়রা জানান, বদলির আদেশ পাওয়ার পরেও শেষ কর্মদিনে এসে ঘর হস্তান্তর করা ইউএনও রাসেল ইকবালের আন্তরিকতা ও মানবিকতার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
স্থানীয় সাংবাদিক শাহারিয়ার হোসেন বলেন, “বৃদ্ধা সূর্য্য বেগমের দুর্দশার কথা ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন। বদলির পরও শেষ দিন এসে ঘরটি বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন—এটাই তার মানবিকতার প্রমাণ।”
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, “মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই সবচেয়ে বড় শান্তি। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন ঘরহীন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমি অনন্দিত। আশা করি মা এখন নিরাপদে ও স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।”
নতুন ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত সূর্য্য বেগম ইউএনওর জন্য দোয়া করেন, আর স্থানীয়রা তাকে “জনবান্ধব কর্মকর্তা” আখ্যা দিয়ে তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন।

