কানুনগোপাড়ার ঐতিহাসিক দত্তবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

রবিবার, নভেম্বর ০৯, ২০২৫

কানুনগোপাড়ার ঐতিহাসিক দত্তবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি

কানুনগোপাড়ার ঐতিহাসিক দত্তবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি
কানুনগোপাড়ার ঐতিহাসিক দত্তবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি


মো. নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়ায় ঊনবিংশ শতকে শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদান রাখা ঐতিহাসিক ‘দত্তবাড়ি’কে হেরিটেজ ঘোষণা করে সরকারিভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে কানুনগোপাড়া একাদশরতœ ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ।


বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে পরিষদের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুল ইসলাম এর কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।


স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আঠারো শতকের শেষভাগে বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া গ্রামে রসিক দত্ত ও মুক্তকেশী দম্পতির ঘরে জন্ম নেন ১১ জন সন্তান, যারা নিজেদের মেধা ও শিক্ষার মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। রসিক দত্ত ছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম কালেক্টরেটের একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারী, কিন্তু তাঁর সন্তানরা সকলেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে অনন্য নজির স্থাপন করেন।


বড় ছেলে রেবতীরমণ দত্ত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পরবর্তীতে তিনি গ্রামে শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯২৮ সালে মা মুক্তকেশীর নামে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুক্তকেশী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। তাঁর ভাই ড. বিভূতি ভূষণ দত্তের নামে প্রতিষ্ঠিত হয় বালক উচ্চ বিদ্যালয়। এরপর ১৯৩৯ সালে তারা প্রতিষ্ঠা করেন বৃটিশ বাংলার পল্লী অঞ্চলের প্রথম কলেজ— ‘স্যার আশুতোষ কলেজ’, যা ১৯৮৯ সালে সরকারিকরণ করা হয়।


পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া ১১ জন সন্তানের এমন অসাধারণ শিক্ষাগত ও সামাজিক কৃতিত্ব উপমহাদেশে বিরল। তাই তাদের স্মৃতিবিজড়িত দত্তবাড়িকে জাতীয় ঐতিহ্য (হেরিটেজ) হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাঁরা আরও জানান, “সংরক্ষণের অভাবে চট্টগ্রামের অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ও কীর্তি হারিয়ে গেছে। দত্তবাড়িকে সংরক্ষণ করা হলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার পীঠস্থান হয়ে থাকবে।”


চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, “মৌখিকভাবে তথ্য পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ইতোমধ্যে দত্তবাড়ি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি যাচাইবাছাই করে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করব, যাতে ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটি সংরক্ষণের আওতায় আনা যায়।”

Post Top Ad

Responsive Ads Here