![]() |
| ঈদে নেই ছুটি, নেই বিরাম: জনসেবায় নিয়োজিতদের নীরব ত্যাগের গল্প |
মো. নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম:
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে সমাজের এক বড় অংশের কাছে ঈদ মানে ভিন্ন বাস্তবতা—নেই ছুটি, নেই বিরাম; বরং বাড়তি দায়িত্ব। জনসেবায় নিয়োজিত এসব মানুষ নিজেদের উৎসবের আনন্দ ত্যাগ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের কল্যাণে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের দিনেও চিকিৎসাসেবা থেমে নেই। হাসপাতালে ভর্তি আছেন অসংখ্য রোগী, পাশাপাশি জরুরি বিভাগে আসছেন নতুন রোগীরাও। যদিও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় রোগী ও স্বজনদের ভিড় কিছুটা কম, তবুও সেবাদানে ব্যস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরাও। শিক্ষানবিশ চিকিৎসক আবিদ হাসান জানান, এবারই প্রথম পরিবার ছাড়া ঈদ করছেন তিনি। পরিবারকে খুব মনে পড়লেও রোগীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ায় ভিন্ন এক তৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “চিকিৎসক পেশায় আসার পর থেকেই জানতাম অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। নিজের আনন্দ-দুঃখ গোপন রেখে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকাই আমাদের দায়িত্ব। তবুও এই দায়িত্ব পালনেই এক ধরনের আনন্দ রয়েছে।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়েলটি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন তার জন্য নতুন কিছু নয়। প্রতি বছরই রোগীদের সেবার মধ্য দিয়েই তিনি ঈদের আনন্দ খুঁজে নেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ঈদেও কঠোর দায়িত্বে:
ঈদের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। ছুটি খুব সীমিত, আর পেলেও তা স্বল্প সময়ের জন্য। অনেক সময় ঈদের নামাজের সময়েও দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশদের ঈদের দিনেও রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে কাজ করতে দেখা যায়।
নিরাপত্তাকর্মী: পাহারায় কাটে উৎসব:
নগরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দারোয়ান ও নিরাপত্তাকর্মীদের ঈদ কাটে কর্মস্থলেই। অন্যরা যখন ছুটিতে, তখন তাদের দায়িত্ব বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
ইমাম-মুয়াজ্জিন: ধর্মীয় দায়িত্বে ব্যস্ততা:
মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ঈদ মানেই ব্যস্ত সময়। ঈদের নামাজ পরিচালনা, ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পাদনসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। অনেক সময় পরিবার থেকেও দূরে থাকতে হয়। একইভাবে ঈদগাহের কর্মীদেরও আগে থেকেই প্রস্তুতিতে থাকতে হয়।
গণমাধ্যমকর্মী: খবরের পেছনে নিরবচ্ছিন্ন ছুটে চলা:
রেডিও, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরতদের অনেকেই ঈদের ছুটি পান না। ঈদ উপলক্ষে সংবাদ পরিবেশন ও বিশেষ অনুষ্ঠান তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন তারা। ফলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে পড়ে।
এছাড়াও বিদ্যুৎ, পরিবহন, শ্রমিক এবং সরকারি বিভিন্ন জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষ ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে জনসেবায় নিয়োজিত থাকেন।
সমাজের এই নিরলস কর্মীরা প্রমাণ করে চলেছেন—ঈদের প্রকৃত চেতনা শুধু আনন্দে নয়, বরং দায়িত্ব ও ত্যাগের মধ্যেও নিহিত।

