
ঝিনাইদহে গৃহকর্মীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় পরিবারের ওপর হামলা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭ নম্বর নলডাঙ্গা ইউনিয়নের রাজবাড়ী গ্রামে এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং এতে বাধা দেওয়ায় ওই নারী ও তার স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ওই নারী বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী গ্রামের রুকসালী খাতুন (২৯) প্রতিদিন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হন তিনি। কাজ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়িতে ফেরেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে রাসেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
রুকসালীর ভাইয়ের দাবি, এ সময় ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে রুকসালী সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি জানার পর রুকসালীর খালাতো ভাই অভিযুক্ত রাসেল হোসেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাসেল হোসেন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে রাসেল হোসেন আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রুকসালী, তার খালাতো ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
তাদের অভিযোগ, এ সময় ধারালো দায়ের পিঠ, লাঠি এবং কিল-ঘুষি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখমের সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত রুকসালী খাতুনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রুকসালীর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তার বোনের মানহানি ও সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেল হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি।
এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ।
