জাহিদ,হাসান,সরিষাবাড়ী(জামালপুর)প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আসন্ন শারদীয়া দূর্গাপূজা উৎসব উদযাপন উপলক্ষে মোট ৪১টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ ।মন্দিরে মন্দিরে চলছে রং-তুলির কাজ।
কারিগরদের দম ফেলার সুযোগ নাই।সরিষাবাড়ী উপজেলার ০১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউপিতে হিন্দু ধর্মাবলীদের বৃহৎ উৎসব শারদীয়া দুর্গাপুজার ৪১টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার আরাম নগর বাজার, শিমলা বাজার,পোগলদিঘা ইউপির বয়ড়া, তারাকান্দি ডোয়াইল ইউপির চাপারকোনা, আওনা ইউপির, কাবারিয়াবাড়ী কামারপাড়া, জগন্নাথগঞ্জঘাট মেথর পট্টি , পিংনা ইউপির, পিংনা, নরপাড়া, কাওয়ামারা পালপাড়া,বারইপটল পালপাড়া(নয়াপাড়া), পিংনা ঋষি পাড়া, ভাটারা ইউপির বাউসি ও ভাটারাতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ । চলছে শেষ মহূর্তের রং-তুলির কাজ নিয়ে মহা ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা। আগামী ১৪ই অক্টোবর রোববার মহা পঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীর উৎসব শারদিয়া দুর্ঘা-পুজা।১৯শে অক্টোবর শুক্রবারে প্রতিমা বিশর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপনী হবে দুর্গা-পুজা উৎসবের। পুজা নিয়ে ৫নং পিংনা ইউপির কাওয়ামার পালপাড়া মন্দিরের সভাপতি শ্রী দোলন চন্দ্র পাল বর্তমানে প্রতিমা তৈরীতে ব্যপক খরচ হয় তবুও ধর্মীয় কাজ করতে হয়। এখানে পুজার সময় হিন্দুÑমুসলমান বা অন্যন্য জাতির মধ্যে ভাতিত্ববোধ বজায় রেখে উৎসবের আমেজে প্রতিমা বিসর্জন হয় । বারইপটল পাল পাড়া (নয়াপাড়া) মন্দিরের সভাপতি দোলন চন্দ্র পাল জানান,প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ । তোড়-জোড়ে চলছে রং-তুলির কাজ । তিনি জানান,শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় আস্তে- আস্তে মা সেজে উঠবেন আপন রুপে । তবে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের রং ,জড়ির কাজ, চুড়ি ,জুড়ির মালা ,শাড়ী,ও অন্যন্য কাচামাল যা দেবীর মূর্তি তৈরীর সাজ সজ্জার জন্য প্রয়োজন ,হাতের কাছে না পাওয়া না যাওয়ায় জামালপুর , ময়মনসিংহ, ও ঢাকা হতে সংগ্রহ করতে হয়। নরপাড়া গ্রামের মন্দিরের মৃৎ শিল্পী বা কারিগর কাওয়ামারা গ্রামের নিতেন চন্দ্র পাল জানান, সাধারন প্রতিমা তৈরিতে মুজুরি ৩০-৪০ হাজার টাকা । আর নকশা দেখে বা বড় প্রতিমা তৈরিতে মজুরি নেন ৭০-৮০ হাজার টাকা। মৃৎ শিল্পীদের কদর কমে যাওয়ায় তাদের অবস্থা ভাল না বলে জানান । আসন্ন দুর্গাপুজা নিয়ে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের(রিমেল) সভাপতিত্বে পূজা উজ্জাপন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভুমি) কামরুন্নাহার, সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাজেদুর রহমান, রমেশ চন্দ্র সুত্র ধর, জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সনাতন ধর্মালম্বী নিকাহ রেজিষ্টার মন্টু লাল তেওয়ারী ,উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ উপজেলার ৪১টি পূজা মন্ডপের সভাপতি -সাধারন সম্পাদক এবং বিভিন্ন পেশাজিবী মানুষ নিয়ে আসন্ন দুর্গাপুজায় যাতে শান্তি শৃংখলা বজায় থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউপি চেয়ারম্যানকে উপজেলা প্রশাষনের পক্ষে থেকে সজাগ থাকার ও নির্দেশ দেওয়া হয়।

