উজ্জ্বল অধিকারী, জেলা (প্রতিনিধি) সিরাজগঞ্জঃ-সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের জনতা ডায়াগনষ্টিক এন্ড ক্লিনিক-২ কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসায় নাসরিন আক্তার (২৭) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সে এনায়েতপুরের তাঁত শ্রমিক আল-আমিন হোসেনের স্ত্রী।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের বিক্ষুব্ধ স্বজনদের ক্ষোভের মুখে চিকিৎসক ও নার্সরা কৌশলে পালিয়ে যায়। রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলতে সরেজমিন ক্লিনিকটিতে কাউকে খুজে পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বামী আল-আমিন হোসেন ও স্বজনেরা অভিযোগ করে জানায়, সোমবার দুপুরের দিকে নাসরিন আক্তারের প্রসব ব্যাথা উঠলে মন্ডলপাড়াস্থ জনতা ডায়াগনষ্টিক এন্ড ক্লিনিক-২ তে ভর্তি করা হয়। এসময় হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা সিজার করিয়ে একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। সারা দিন ভালই ছিল নাসরিনের শারীরিক অবস্থা। হঠাৎ করে রাত সাড়ে ৭টার দিকে এক নার্স এসে নাসরিনের শরীরে ইনজেকশনপূশ করার পর থেকে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে পেট, মুখমন্ডল সহ শরীর ফুলে ওঠে। চিকিৎসকদের বিষয়টি জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় রাত ১০টার দিকে নাসরিনের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নাসিরনের মৃত্যু হয়েছে দাবি করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজন ও চিকৎসক-নার্সরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুরে সরকারী তেমন কোন চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র গড়ে না ওঠায় বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারী হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব হাসপাতালে দক্ষ চিকিৎসক কিংবা প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় এক শ্রেণির দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে রোগীদের নিয়ে আসা হয়। পরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা প্রদান না করেই রোগীদের গলা কেটে বিল নেয়া হয়। এছাড়া অধিক মুনাফার লোভে প্রয়োজনীয় দক্ষ চিকিৎসক ছাড়া হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সেবা প্রদান করায় মাঝে মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে রোগীর মৃত্যু ঘটছে। তাই অবিলম্বে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এবিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম জানায়, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে রাতে টহল পুলিশ ওই ক্লিনিকের সামনে দিয়ে যাবার সময় অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করেছে।

