ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিরল এক স্থানের সন্ধান - SHOMOYSANGBAD.COM

শিরোনাম

Sunday, June 30, 2019

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিরল এক স্থানের সন্ধান




সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর থেকে : 
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে স্থাপিত হতে যাছে অনন্য ভৌগলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু মানমন্দির ও পর্যটন কেন্দ্র। কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার লোকালয়ে দৃশ্যমান বিশ্বের একমাত্র ছেদ বিন্দু।  চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে। আর এই জায়গাটিকে বিজ্ঞানীরা বিরল এক স্থান বলে অভিহিত করছে।

বারোটি বিন্দুর দশটি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, সেখানে কেউ যেতে পারে না। এর মধ্যে শুধু দুইটি ছেদ বিন্দু পড়েছে স্থলভাগে। এর একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে সেখানেও কেউ যেতে পারে না। আর অন্য বিন্দুটি বাংলাদেশে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুটি পড়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়। শুক্রবার (২৮ জুন) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘একটি স্বপ্ন’ প্রবন্ধে মানমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সংবাদটি জানা যায়। 

এই খবর জানার সাথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছে ওই স্থানটি দেখতে। ধারনা করা হচ্ছে এটি নির্মান সম্পন্ন হলে শুধু দেশের পর্যটকসহ সারা বিশ্ব থেকে মানুষ আসবে ভৌগলিক এ গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি দেখতে। 
 
লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘একটি স্বপ্ন’ প্রবন্ধে বলেছেন, আমি নিশ্চিত জমি চাষ করার সময় অনেক মানুষ এই বিন্দুটির উপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছে কিন্তু এই জায়গাটির অচিন্ত্যনীয় ভৌগলিক গুরুত্ব অনুভব করে সম্ভবত আর কেউ এখানে পা দেয়নি। প্রতি বছর জুন মাসের ২১ তারিখ (অর্থাৎ ঠিক এক সপ্তাহ আগে) দুপুর বারোটার সময় কেউ যদি বাইরে দাঁড়ায় এবং আকাশে মেঘ না থাকে তাহলে আবিষ্কার করবে সূর্য ঠিক মাথার উপর এবং সেজন্যে সেখানে তার কোনো ছায়া পড়ছে না। কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার সেই ছেদ বিন্দুতে সেটি একেবারে পুরোপুরি আক্ষরিকভাবে সত্যি।
 
তিনি জানান, এখানে মানমন্দির নির্মাণ হলে শুধু দেশের পর্যটকরা সারা বিশ্ব থেকে মানুষ আসবে ভৌগলিক এ গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি দেখতে।
 
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন জাফর ইকবাল। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত সকলে প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানমন্দির’স্থাপন করার জন্য একটা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কারিগরি কমিটি তৈরি করে এরইমধ্যে একটি সভাও হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানমন্দির তৈরি করার জন্য ভাঙ্গাকে একেবারে আদর্শতম জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেননা ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার পথ হচ্ছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে এবং এশিয়ান হাইওয়ের করিডোর-১ এর অংশ। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে বঙ্গবন্ধুর নামে মানমন্দির নির্মিত হলে তা হয়ে উঠবে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বলে মনে করছেন ফরিদপুর জেলাবাসী।

No comments:

Post a Comment