মেহেরপুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যার রহস্য উদঘাটন \ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

মেহেরপুরের চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যার রহস্য উদঘাটন \ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং

মেহের আমজাদ, মেহেরপুর //
মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামে মাছ ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা রোকুনুজ্জামান (৩৬) ও হাসানুজ্জামান (৪৪)  জোড়া হত্যা মামলার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় মিলনায়তনে ওই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসব্রিফিং-এ পুলিশ সুপার এস.এম মুরাদ আলী বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৮  জনকে আটক করা হয়েছে ,যারা এই হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। আটক ৮ জনের মধ্যে ৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ।

তিনি জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিক্তিতে আলমডাঙ্গার কুলপালা গ্রাম থেকে মৃত মোজ্জাম্মেল হকের ছেলে মোঃ আব্দুল হাকিম (৫৫) , তার ছেলে মোঃ আব্দুস সালাম (২৭) কে ও একই রাতে নতুন দরবেশ হতে মৃত আমোদ আলীর ছেলে মোঃ তারাচাঁদ ফকির (৫০) এবং সোনাপুর গ্রাম হতে মৃত মুছাব মন্ডলের ছেলে মোঃ মামলত মন্ডলকে গ্রেফতার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

মোঃ হাকিম আদালতে স্বীকার করে যে, তার আপন বড় ভাই আব্দুল হামিদ (যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী, বর্তমানে জেল হাজতে আটক আছে) এর নির্দেশে আব্দুল হামিদের ছেলে মোক্তার হোসেন হত্যা ও শোলমারী বিলের অংশদারীত্ব হতে বাদ পড়া এবং স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের প্রতিশোধ নিতে আব্দুল হামিদ জেলখানা থেকে রোকুনুজ্জামান ও হাসানুজ্জামানকে হত্যার জন্য তার ভাই হাকিমকে নির্দেশ প্রদান করে। পরবর্তিতে হাকিমের নির্দেশনা মোতাবেক হত্যার পূর্বে তার আপন ভাগ্নে মোঃ ইসমাইল হোসেন বাক্কা (৩২) কে নগদ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়াটিয়া খুনি ভাড়া করে রোকুনুজ্জামান  ও  হাসানুজ্জামানকে হত্যা করার জন্য বলে। মামা হাকিমের কথা মত ভাগ্নে ইসমাইল হোসেন বাক্কা ৭-৮ জন খুনি ভাড়া করে হত্যাকান্ড ঘটায়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মিশনে জড়িত আর এক আসামী মোঃ আবুল কালাম কালুকে ৮ অক্টোবর বারাদী বাজার থেকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের নাম প্রকাশ করে ও হত্যার বর্ণনা দেয়। আসামী কালু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

আসামী কালুর তথ্য মোতাবেক গত ১২ অক্টোবর গাংনী থানার হাটবোয়ালিয়া থেকে মোঃ শহর আলীর ছেলে মোঃ রনি আলী (৩৫) কে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে রনিও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

রনি আলী হত্যার বর্ননায় স্বীকার করে বাক্কা সহ অন্য আর একজন রোকুনুজ্জামান কোপাতে থাকে। পরবর্তিতে বাক্কা সহ অন্য আর একজন রোকুনুজ্জামানকে পা চেপে ধরে। ধৃত আসামী সহ অন্য একজন হাসানুজ্জামানকে চেপে ধরে রাখে। রনি এই হত্যার সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। রনিও  আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে  ১৪ অক্টোবর রনির তথ্য মতে মইনুল হোসেনের ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান (২৫) ও মোঃ মইরউদ্দীন ফকিরের ছেলে মোঃ ফরিদ ফকির (২৬) কে মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ থেকে গ্রেফতার পূর্বক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন যে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যতম আসামী মোঃ ইসমাইল হোসেন বাক্কা ৪ অক্টোবর রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়।

উল্লেখ্য গত ১১ সেক্টেম্বর রাতে মেহেরপুর সদর উপজেলর নতুন দরবেশপুর পূর্বপাড়া আজিজুল হকের ধানক্ষেতে দরবেশপুরের শোলমারী বিলের ধারে মৃত ইদ্রিস আলী বিশ্বাসের ছেলে রোকনুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদের ছেলে হাসানুজ্জামানকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের  আরো জানান, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য সন্দিগ্ধ আসামীদের গ্রেফতারের জন অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামীদের নাম পরিচয় এই মুহুর্তে গোপন রাখা হচ্ছে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, সদর থানা ওসি শাহ্ দারা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here