নাব্যতা সংকট ও অবৈধ দখলে মৃত প্রায় বড়াল নদী - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯

নাব্যতা সংকট ও অবৈধ দখলে মৃত প্রায় বড়াল নদী

বড়াল নদী
ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি-
রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদী দখলের মহাউৎসব চলছে। বড়াল নদীর মোহনায় সরকারী জমি অবৈধ দখল ও ভরাট করে বাড়ি ঘর, বালু সংরক্ষনের জায়গা ও বালু বহনে ট্রাক যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। আর এতে পদ্মা নদী হইতে বড়াল নদীর মোহনায় পানির প্রবাহ যেমন বিঘœ হচ্ছে তেমনিই নাব্যতা হারিয়ে এককালের ক্ষর¯্রত নদীটি খালে পরিনত হয়ে যাচ্ছে। 
উপজেলা চারঘাটের কোলঘেষে প্রমত্তা পদ্মার শাখা নদী বড়াল, রাজশাহীর চারঘাট হয়ে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা হয়ে যমুনা নদীর সাথে মিশেছে। এই নদীতে সারা বছর নৌকা চলতো, মাছ পাওয়া যেত, পানি টলটল করত। মূলত বর্ষাকালে দুই-তিন মাস পানি পদ্মার পানি প্রবাহের মাধ্যমে এই নদীতে পানি থাকে। আর বাকি মাসগুলোতে পানি শুকিয়ে থাকে। স্থানীয় লোকজন বর্তমানে এই শুকনো নদীতে বিভিন্ন শস্যের চাষাবাদ করেন। 
বছরের পর বছর ধরে প্রমত্তা পদ্মানদী বর্ষা মৌসুমের কয়েকমাস নেপালের হিমালয় থেকে বয়ে আনা পলিমাটি জমে ছোট ছোট চরের জন্ম নিচ্ছে। চারঘাট সীমানায় পদ্মা-বড়াল মোহনায় এই পলি জমে নদীর মোহনা ভরাট হয়ে গেছে। নাব্যতা হারিয়ে নদীর ¯্রােত বন্ধ হয়ে গেছে এবং হারিয়ে গেছে নদীর সৌন্দর্য। এছাড়াও এই নদীটির মোহনা থেকে কয়েকশ মিটার পরে ১৯৮৬  সালে তৈরি হয়েছে একটি ¯øুইসগেট যার দরুন বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বিঘœ ঘটায়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এই ¯øুইসগেটটি উঠিয়ে দিয়ে পানির সুষ্ঠ প্রবাহ বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করলেও স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে কোন সুষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। বড়াল নদীটি প্রায় ১ শত ৪৭ কি:মি: লম্বা ও ৪১০ ফুট প্রসস্ত। দখল আর নাব্যতা সংকটে ধুকতে থাকা রাজশাহীর চারঘাট, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমহর, ভাঙ্গুরা, বেড়া হয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর হয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীটি দিন দিন যেন মানচিত্রের বুক থেকে হারাতে বসেছে। তাই নদীকে রক্ষার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। 
বড়াল নদীটির এই রুগ্ন দশায় এই এলাকার সাধারন জনগনের জীবনমানের বিরুপ প্রভাব পড়ছে। কৃষিক্ষেত্রে, ফসল চাষাবাদে ব্যপক ভুমিকা রাখতো এই নদীটি। কিন্তু শুস্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ভূগর্ভোস্থ কল স্থাপন করে পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে কৃষকদের। পানির লেয়ার মাটির আরও গভীরে নেমে যাওয়া দেখা দিচ্ছে আর্সেনিক রোগসহ বিভিন্ন পানি সংক্রান্ত রোগ।  মিঠা পানির মাছও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে পানির অভাবে। অথচ এই নদীতে মাছ ধরার মাধ্যমে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতো। 
হারিয়ে যেতে থাকা এই নদীর প্রান ও নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য খননকাজ শুরু করে ও দখলমুক্ত করতে প্রশাসনকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের আহŸান জানান উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম। আর বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য ও রুলফাও এর পরিচালক আফজাল হোসেন বড়াল নদীর এই দুর্দশার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। 
এপ্রসঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নাটোর এর সহকারী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলেন, পদ্মা-বড়াল নদীর মহনায় খনন করে নদীটির নাব্যতা উদ্ধারের জন্য ইতিমধ্যে ব্যপক কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে এবং খুব দ্রæতই এর বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। 
এই বড়াল নদীটির মোহনা দ্রæত উদ্ধার নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে এই উপজেলাবাসীসহ নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ প্রসঙ্গে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকে কোন অবৈধ স্থাপনা বা নদী দখল করেছে এমন খবর আমার জানা নাই তবে কোথাও কোন অবৈধ স্থাপনা থাকলে আমাদের জানালে আমরা ওটা আইনের আওতায় এনে মুক্ত করবো আর বর্তমানে যা আছে তার তালিকা আমরা তৈরি করছি এবং এগুলো খুব শীঘ্রই উচ্ছেদ করা হবে। ইতিমধ্যে নদী দখল করে বালু আনা নেওয়ার জন্য রাস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে আমরা বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নাটোর জেলার সাথে কথা বলেছি এবং দ্রæততম সময়ের মধ্যে অবৈধ উচ্ছেদ ও নদীর মোহনা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করা হবে।  

Post Top Ad

Responsive Ads Here