সময়/রাজধানী:
রাজধানীর রেলগেটগুলোতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। রেলগেটগুলো পরিণত হয়েছে ফল ব্যবসায়ী, হকার, অবৈধ সিএনজি, ইজিবাইক ও অটোরিকশার পার্কিং স্থলে। চলছে রমরমা ব্যবসা। ফলে একেকটি রেলগেট মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেলের জমিতে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার দোকানপাট। শুধু জুরাইন রেলগেটেই রয়েছে প্রায় দেড় হাজার ভাসমান দোকান। আকার আর ব্যবসার ধরণ ভেদে প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়।
রাজধানীর বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, মহাখালী, খিলগাঁও, কারওয়ান বাজারেও একই চিত্র। যার কারণে ট্রেন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে সমস্যা। দোকানের ছাউনির কারণে পথচারীদেরও পথ চলতে সমস্যা পোহাতে হয়।
বিমানবন্দর রেলগেটে দুই পাশে গড়ে উঠেছে ফুটপাত। আর তাতে ছোট ফলের আড়ত। এছাড়াও অবৈধ ইজিবাইক, অটোরিকশা ও রিকশার পার্কিংয়ের কারণে সব সময় লেগে থাকে জ্যাম।
কারওয়ান বাজারের রেলগেটেও একই চিত্র। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও রিকশার কারণে রেলগেট ঠিকমতো বোঝার উপায় নেই বললেই চলে। লাইনের দুই পাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। মাঝে মাঝে পুলিশের অভিযানে সেসব তুলে দেয়া হলেও অভিযান শেষে আবারও বসছে সেসব দোকান। ফলে প্রায় প্রতি মাসেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এদিকে তেজগাঁও রেলগেটের অবস্থা আরো ভয়াবহ। রেললাইনের দুই পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট খুপড়ির মতো ঘর। সেখানেই বসবাস করছে অসংখ্য মানুষ। সারিসারি করে গড়ে উঠেছে হরেক রকমের দোকানপাট। জায়গাটি মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
রাজধানীর জুরাইন রেলগেট এলাকায় দেখা গেছে, রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড বানিয়ে রাজস্ব আদায় করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। অভিযোগ রয়েছে, এই রেলগেট ঘিরে প্রভাবশালী মহলের কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যের, নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রেলের জমিতে প্রায় দেড় হাজার ভাসমান দোকান। আকার আর ব্যবসার ধরণ-ভেদে প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়।
এ ব্যাপারে ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, সব দলেরই লোকজন এখানে কিছু সুবিধা পায়। শুধু যে আওয়ামী লীগ আছে তা না। জাতীয় পার্টি বা অন্যান্য দলের লোকজনও সুবিধা পায় এখানে।
জুরাইনে ট্রাফিক চেক পোস্টকে ঘিরে অবৈধ সিএনজি ও অটোরিকশার জমজমাট বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন কেরানিগঞ্জ থেকে আসা প্রায় ২ হাজার অবৈধ সিএনজি থেকে সিটি কর্পোরেশনের নামে ১০ টাকা আর অলিখিত ১০ টাকাসহ মোট ২০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। দক্ষিণ সিটি তত্ত্বাবধায়ক ফরিদা ইয়াসমিন লিখিত ১০ টাকা চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করলেও ২০ টাকা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
সময়/রাজ


