ওবাইদল ইসলাম রবি,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর বেসামরিক পদে টাকার বিনিময়ে চাকুরী দেয়ার সিন্ডিকেটের দুইজনকে আটক প্রসঙ্গে
১। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাব জঙ্গি, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, মাদক, অস্ত্রধারী অপরাধী, ভেজাল পণ্য, ছিনতাইকারী, প্রতারক ও হ্যাকারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
২। প্রতারক মোঃ শফিকুল ইসলাম @ বাবুল (৫০) গ্রাম- ভালুকা, ইউনিয়ন- কলমা, উপজেলা- তানোর এবং প্রতারক আনোয়ার হোসেন @ সাবের আলী (৫০), থানা- চন্দ্রিমা, রাজশাহী মহানগর, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বাবুল এর এলাকার ছেলে রঞ্জু, আলমগীর ও মেহেদী হাসান এর কাছ থেেক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেসামরিক বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধারে ৭.৫ লক্ষ, ৮ লক্ষ এবং ৭ লক্ষ টাকা চায়। তারা আবেদনকারীদেরকে নিশ্চয়তা দান করে যে চাকরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাওয়ার পরেই তারা আবদেনকারীদের কাছ থেকে টাকা নিবে।
৩। তারা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবদেনকারীদের সাবের আলীর বাসায় একটি লিখিত পরীক্ষা নেয় এবং পরর্বতীতে জানুয়ারি মাসেই ঢাকার উত্তরাতে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তাদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। তারা আবদেনকারীদেরকে নিশ্চিত করে যে তাদের শারীরিক যোগ্যতা ঠিক আছে এবং তাদেরকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পাঠিয়ে দেয়।
৪। প্রতারকরা আবদেনকারীদেরকে আশ্বস্ত করে যে ১৫ দিনের ভিতরে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার চলে আসবে।
৫। ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখ অ্যাপযে়ন্টমেন্ট লেটার আসে বলে আবদেনকারীদেরকে জানানো হয়। বাবুল, রঞ্জু ও শহিদুল নামের এক ব্যক্তি সাবের এর বাসায় গিযে় রঞ্জু কে ভূয়া অ্যাপযে়ন্টমেন্ট লেটার এর অংশবিশেষ দেখায়।
৬। অ্যাপযে়ন্টমেন্ট লেটার দেখার পরে আবদেনকারী র্অথাৎ রঞ্জু, আলমগীর এবং মেহেদী হাসান তাদেরকে বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা প্রদান করে ( রঞ্জু ৪.৫ লক্ষ টাকা ৩ কিস্তিেিত, আলমগীর ২.৫ লক্ষ টাকা তিন কিস্তিতে, মহেদেী হাসান এর টাকা প্রদানের পরিমান সর্ম্পকে কোন তথ্য জানা যায়নি )।
৭। পরর্বতীতে তাদেরকে জানানো হয়, জুন মাসে তাদের র্কমস্থলে যোগদান করতে হবে এবং তাদেরকে আরও বলা হয়, যোগদানের আগে অবশষ্টি টাকা অবশ্যই দিতে হবে।
৮। অবশষ্টি টাকা পরেিশাধরে জন্য রঞ্জু এবং আলমগীরকে বাবুল এবং সাবের আলী রাজশাহীতে ডেকে এনে আলাদা আলাদা ভাবে চেক এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহন করে। এক্ষেত্রে উল্লখ্যে স্টাম্প গুলো খালি ছিল।
৯। রঞ্জু এবং আলমগীর, প্রতারক বাবুল সহকারে ০১ জুন ২০২০ তারিখ ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে যায়। ঢাকা পৌঁছে তারা জানতে পারে়, তাদের চাকরির ব্যাপার টা অসত্য। এরপর তারা সাবের আলীকে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পায়। এরপর তারা সাবের আলীর সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাবের আলী এর সাথে যোগাযোগ করতে পারে না।
১০। প্রতারিত যুবকেরা ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফিরে এসে সাবের আলীর সাথে যোগাযোগ করলে সাবের আলী তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানায়।
১১। সাবের আলী উক্ত ঘটনা বাবলুকে জানানোর পরে বাবলু তাকে পরামর্শ দেয় যে, আবদেনকারীদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানোর জন্য, যাতে তারা ভয়ে় এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ না নেয়। এরপর সাবের আলী, আবদেনকারী রঞ্জুর স্বাক্ষরিত স্টাম্প ও চেক কে পুজি করে আবদেনকারী রঞ্জুর বাসায় একটি উকিল নোটিশ পাঠায়।
১২। এখানে উল্লখ্যে যে, মোঃ আনোয়ার হোসেন @ সাবের আলী স্বীকার করে যে, মোঃ শফিকুল ইসলাম @ বাবুলু তাকে প্রায় ২ বছর আগে এই অবৈধ উপায়ে় টাকা উর্পাজনের জন্য চাকরির নাম করে প্রতারণা করার বুদ্ধি দেয়।
১৩। মোঃ শফিকুল ইসলাম @ বাবুল পুরো ঘটনাটাকে বিশ্বস্ত করানোর জন্য তার নিজের ছেলেকেও উক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখায় এবং সে নিজেই আবদেনকারীদেরকে নিযে় বিভিন্ন সময় ঢাকা যায়। বিভিন্ন সমযে় আবদেনকারীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের সময় বাবুল নিজে সাবের আলীর সাথে সঙ্গ দেয়।
১৪। এরই ধারাবাহিকতায় মেজর মোঃ নাজমুস শাকিব এর নেতৃত্বে র্যাব-৫, রাজশাহীর সিপিএসসি, মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ২০ নভেম্বর ২০২১ তারিখ সকাল ০৯.০০ ঘটিকায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলার তানোর থানাধীন ভালুকা কান্দর গ্রামস্থ উত্তর-দক্ষিণ লম্বা লম্বি দক্ষিণ দুয়ারী টিনশেড ঘরের দক্ষিণ পার্শ্বের রুমে পৌছামাত্র ১নং আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন @ সাবের (৪৫) কৌশলে পালিয়ে যায় এবং ২নং আসামী মোঃ শফিকুল ইসলাম @ বাবুল (৫০)কে ঘটনাস্থলেই আটক করেন। পরে র্যাবের টহল দলের সহায়তায় ২নং আসামীর দেয়া তথ্য মতে ১নং আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন @ সাবের (৪৫) কে তাহার বসতবাড়ী হইতে ধৃত করা হয়।
১৫। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ১নং আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন @ সাবের (৪৫) ও ২নং আসামী মোঃ শফিকুল ইসলাম @ বাবুল (৫০)দ্বয় উপরোক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং আরো বলে যে, তাহারা বিভিন্ন এলাকার ও বিভিন্ন লোকের নিকট হতে টাকার বিনিময়ে সেনাবাহিনীর চাকুরী দেওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রতারণা করে এবং সেনাবাহিনীতে সিভিল চাকুরীর ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়াছে মর্মে জানায়।
১৬। পরিশেষে, আমি সকল প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সাংবাদিক ভাইদের আশ্বস্থ করতে চাই যে আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় (রাজশাহী মহানগরীসহ রাজশাহী জেলা, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা) জঙ্গীবাদ দমন, সংঘবদ্ধ অপরাধীদের গ্রেফতার, অবৈধ মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। আমি মনে করি, র্যাব-৫, রাজশাহী এর ধারাবাহিক সফলতার পিছনে মিডিয়া এবং গণমাধ্যমের ভ‚মিকা অনিস্বীকার্য। কাজেই আপনাদের নিকট থেকে পূর্বের ন্যায় সকল সহযোগীতা স্বতস্ফুর্তভাবে কামনা করছি।
