
"গরু কিনতাম ন, ঘুইরতাম আইলাম’ | সময় সংবাদ"
মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
এহন গরু কিনতাম ন। এনে ঘুইরতাম আইলাম। ঘুরি যা দেইলাম- বিয়ারি অক্কল দাম টোয়ার ডাবল। এতাল্লাই এহন বেচাকেনাও ন অর। বিয়ারি আর কাস্টমার, বেজ্ঞুন শেষ টাইমের অপেক্ষাত আছে’। (এখন গরু কিনবো না। এমনিতে ঘুরতে এলাম। ঘুরে যা দেখলাম- ব্যাপারীরা দাম হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুণ। ফলে এখনো সেভাবে বেচাকেনা হচ্ছে না। ব্যাপারী আর ক্রেতা, দুপক্ষই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছে)।
এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ থেকে বিবিরহাট বাজারে পশু দেখতে আসা ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন। তার মতো একই কথা বললেন আরেক ক্রেতা ওয়াসিম উদ্দিনও। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়ে গেছে ব্যাপারীদের। তাই প্রতি বছর তারা শেষ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন। যদিও কোরবানিদাতার সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের হাটের অবস্থা। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।
ঈদুল আজহার বাকি আর পাঁচদিন। অন্যান্য বছর চাঁদ দেখার পর থেকে জমে উঠলেও এ বছর এখন পর্যন্ত সেভাবে বেচাকেনা হচ্ছে না চট্টগ্রামের পশুরহাটগুলোতে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সাগরিকা, বিবিরহাট ও কর্ণফুলীসহ কয়েকটি পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।
নগরীতে এবার বসা সাতটি পশুরহাটের মধ্যে স্থায়ী হাট রয়েছে তিনটি এবং বাকি চারটি অস্থায়ী। স্থায়ী হাটগুলো হলো- সাগরিকা, পোস্তারপাড় (ছাগলের বাজার) ও বিবিরহাট। এছাড়া অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে- কর্ণফুলী, সল্টগোলা রেলক্রসিং, দক্ষিণ পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কসংলগ্ন মাঠ ও পতেঙ্গা লিংক রোড সংলগ্ন খেজুরতলা মাঠ।
হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে- শামিয়ানা ও ত্রিপল টাঙিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের গরু। ক্রেতাদের পছন্দ হলে নিজেদের চাহিদামতো দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যাপারীরা। যদিও ক্রেতারা বলছেন- নিয়মের অতিরিক্ত মূল্য হাঁকাচ্ছেন ব্যাপারীরা। আর ব্যাপারীরা বলছেন তার বিপরীত।
গরু নিয়ে সাগরিকা বাজারে আসা ফরিদপুরের হামিদ আলী বলেন, ২৬টি গরু এনেছি। এখন পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। হাতে আরো সময় আছে। সামনে কী হয়, সেই অপেক্ষায় আছি। কপালে আল্লাহ যা রাখেন, তাই হবে।
আরেক ব্যাপারী নওগাঁর কুদ্দুছ মিয়া বলেন, মাত্র দুটি গরু এনেছি। ক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন কম। গরু পালনে এখন খরচ বেশি। চাহিদার কাছাকাছি হলে ছেড়ে দেবো।
সাগরিকা ছাগলের বাজারের ব্যাপারী মোহাম্মদ খোকন বলেন, দু-তিন বছর ধরে মানুষ আর্থিক সংকটে। যার ফলে ছাগলের চাহিদা কিছুটা বেশি। আগের বছরগুলোতে ছাগল ভালো বিক্রি হয়েছে। এ বছরও ভালো হবে বলে আশা করছি।
বিবিরহাট বাজারে আসা রাজবাড়ির মোহাম্মদ হানিফ বলেন, চট্টগ্রামে সাধারণত কোরবানির দুদিন আগে থেকে পশু বেচাকেনা শুরু হয়। হাটে ক্রেতা তেমন একটা নেই। তাই বেচাকেনাও এখনো শুরু হয়নি। যা আসছেন তারা পশু দেখার পর নামমাত্র দাম বলে চলে যাচ্ছেন। শুক্রবার থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে বলে আশা করছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে চট্টগ্রামে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পশুর সংখ্যা বেড়ে ৯৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পশুসম্পদ খামারের সংখ্যাও।
চট্টগ্রামের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার কোরবানিতে পশুর চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আট লাখ ২১ হাজার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলা ও নগরের তিন থানার আট হাজার ১৭১ জন খামারি মিলে সাত লাখ ৯১ হাজার ৫০১ পশু উৎপাদন করেছেন। যার মধ্যে পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৩টি গরু, ৬৬ হাজার ২৩৭টি মহিষ, এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৬২টি ছাগল-ভেড়া ও ৯৯টি অন্যান্য পশু রয়েছে।
