![]() |
| ফেসবুকে ‘এনআইডির হাট’: ৩০ দিনে পাচার ৩.৬৫ লাখ তথ্য, আয় ১১ কোটি টাকা |
মো: নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:
সর্ষের ভেতরেই ভূত—নাগরিকদের অতি সংবেদনশীল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তথ্য সংরক্ষিত যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুরক্ষিত সার্ভার, সেটিই হয়ে উঠেছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অবৈধ আয়ের উৎস। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এনআইডি তথ্য কেনাবেচার ভয়াবহ একটি সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি নাগরিকের এনআইডি তথ্য পাচার করে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।
সিআইডির সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।
তিনি জানান, এই চক্রের মূল হোতা গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ এবং আউটসোর্সিং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আলামিন।
গোপন আইডি-পাসওয়ার্ডে চলত ‘ডিজিটাল লুট’:
সিআইডি জানায়, আলামিনের কাছে থাকা ইসির একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই সার্ভারে প্রবেশ করা হতো। সাপ্তাহিক ৪–৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সেই এক্সেস হাবীবুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করতেন আলামিন।
এরপর ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতি এনআইডি তথ্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতেন হাবীবুল্লাহ।
৩০ দিনে ১১ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন:
তদন্তে উঠে এসেছে, গত এক সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং এক মাসে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য পাচার করা হয়েছে। বাজারমূল্যে এসব তথ্যের অবৈধ মূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।
এই অর্থ দিয়েই রাজধানীতে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন হাবীবুল্লাহ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন।
গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বর্তমানে পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

