অপরিকল্পনা ও আমলাতন্ত্রে থমকে আছে চট্টগ্রামের টেকসই পর্যটন - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

অপরিকল্পনা ও আমলাতন্ত্রে থমকে আছে চট্টগ্রামের টেকসই পর্যটন

অপরিকল্পনা ও আমলাতন্ত্রে থমকে আছে চট্টগ্রামের টেকসই পর্যটন
অপরিকল্পনা ও আমলাতন্ত্রে থমকে আছে চট্টগ্রামের টেকসই পর্যটন

 


মো: নাজমুল হোসেন ইমন, স্টাফ রিপোর্টার:

সমুদ্র, পাহাড়, নদী ও লেক—প্রকৃতির সব উপাদানের অপূর্ব মেলবন্ধন থাকা সত্ত্বেও পর্যটনের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে চট্টগ্রাম। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নগরায়নের চাপ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ নগরে টেকসই পর্যটনের সম্ভাবনা আজও বাস্তব রূপ পায়নি। অথচ সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম হতে পারত দেশের অন্যতম পর্যটন হাব এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস।


কাট্টলির সবুজ উপকূলে উড়ন্ত বকের ঝাঁক, সাদা পাখির দল আর দিগন্তজোড়া বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি—চট্টগ্রাম উপকূলে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এঁকে রেখেছে এক অনন্য চিত্রকর্ম। কোথাও ম্যানগ্রোভ বন, কোথাও বালুকাবেলা, আবার কোথাও ব্যস্ত জেলেদের জীবিকার দৃশ্য পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনার কথাই জানান দেয়।


চট্টগ্রাম নগর ঘিরে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা, বিস্তীর্ণ পাহাড়সারি, কর্ণফুলীর মনোরম বাঁক, ঐতিহাসিক দীঘি, ফয়েজলেক, সিআরবি ও বাটালি পাহাড়—সব মিলিয়ে নগরটিকে প্রকৃতির এক জীবন্ত জাদুঘরে পরিণত করেছে। নগর থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে পারকি সমুদ্র সৈকত, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের ঝরনা-পাহাড় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পর্যটনের আবেদন।


স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার অভাবে চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য পর্যটন স্পটের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। পাহাড়, নদী ও সমুদ্রের সঙ্গে ইতিহাসের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে চট্টগ্রামের অবস্থান এখনও দুর্বল।


বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী বলেন, “দেশে অনেক ট্যুর অপারেটর থাকলেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি। তাও বেশিরভাগ আউটবাউন্ড ট্যুরিজমে। ইনকামিং বা বিদেশি পর্যটক আনার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে।”


বিশ্বব্যাপী টেকসই বা ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফিউচার মার্কেট ইনসাইটসের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এ খাতের বাজার প্রতিবছর গড়ে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে। ২০২৪ সালের ১ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার ২০৩৪ সালে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১২ দশমিক ৮২ ট্রিলিয়ন ডলারে।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন বলেন, “ইকো ট্যুরিজম বাস্তবায়নে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করা না গেলে টেকসই পর্যটন সম্ভব নয়।”


এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভুটান ও ভারত—টেকসই পর্যটন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তবে বাংলাদেশে, বিশেষ করে চট্টগ্রামে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছেন খোদ নগর মেয়র।


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চর পাকুলিয়ায় প্রায় ৪০০ একর জায়গা নিয়ে ইকো ট্যুরিজম পার্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরের জটিলতায় সেটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। দেশে কেউ কিছু করতে চাইলে দীর্ঘ প্রসিডিউরের কারণে তা আটকে যাচ্ছে।”


পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে নৈসর্গিক চট্টগ্রাম খুব সহজেই টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।


Post Top Ad

Responsive Ads Here