আলফাডাঙ্গায় দ্বীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা ইছাপাশা কাদেরিয়া নূরানী মাদ্রাসা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

আলফাডাঙ্গায় দ্বীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা ইছাপাশা কাদেরিয়া নূরানী মাদ্রাসা

 

আলফাডাঙ্গায় দ্বীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা ইছাপাশা কাদেরিয়া নূরানী মাদ্রাসা
আলফাডাঙ্গায় দ্বীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা ইছাপাশা কাদেরিয়া নূরানী মাদ্রাসা


আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার ইছাপাশা গ্রামে দ্বীনি শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা। আলফাডাঙ্গা–কাশিয়ানী প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ৯৯ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি একাডেমিক সাফল্য, শৃঙ্খলা ও আদর্শ মানুষ গঠনের মাধ্যমে পুরো উপজেলায় প্রশংসিত হয়েছে।


মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মচারীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে এখানে ২২০ জন শিক্ষার্থী দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার পাঠ গ্রহণ করছে। নূরানী তা’লীমূল কুরআন বোর্ড, চট্টগ্রামের অধীনে পরিচালিত নূরানী বিভাগ (প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি) এবং হেফজ বিভাগে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে।


শিক্ষার মানের প্রমাণ হিসেবে ২০২৪ সালের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৪ জন জিপিএ–৫ অর্জন করে। ২০২৫ সালেও ১৬ জন পরীক্ষার্থীর শতভাগ পাশের পাশাপাশি ৩ জন জিপিএ–৫ লাভ করেছে। একই বছরে বার্ষিক মাহফিলে ৩ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন হেফজ সম্পন্ন করায় পাগড়ি লাভ করে। বর্তমানে হেফজ বিভাগে ৩০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী সুশৃঙ্খল পরিবেশে অধ্যয়ন করছে।


মাদ্রাসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা ও নিয়মিত অধ্যয়নে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষার পর কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো হয়।


প্রতিষ্ঠানটি এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুন্সি বিল্লাল হোসাইন বলেন, “ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা আমাদের এলাকার একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানকার পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে।”


মাদ্রাসার সার্বিক অগ্রযাত্রা সম্পর্কে মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা শুধু শিক্ষা নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একজন আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে তুলতেই ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।” এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও শিক্ষকদের নিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




Post Top Ad

Responsive Ads Here