
"যমুনায় উঠানামা করছে পানি, বন্যার আশঙ্কা | সময় সংবাদ"
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রথম দফায় বন্যার পর বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উঠানামা করছে যমুনার পানি। তবে এখনো বিপদসীমার নিচেই রয়েছে। জেলায় আরো আরো দুই দফা বন্যা হওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এরমধ্যে চলতি জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে একবার ও আগস্টে আরেকবার যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে।
এর আগে, গত জুন মাসের শুরু থেকে যমুনার পানি বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ১৭ জুন সন্ধ্যা থেকে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। ফলে টানা ৯ দিন পানিবন্দি জীবন-যাপন করেন জেলার সারিয়াকান্দিসহ ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার (সেমি) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে, সোমবার একই পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৮ সেমির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, যমুনা নদীর বিপদসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। আর বাঙালি নদীর বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয় ১৫ দশমিক ৮৫ মিটার।
প্রথম দফায় বন্যায় সারিয়াকান্দির যমুনা চরাঞ্চলের কাজলা, চালুয়াবাড়ি, হাটশেরপুর ও সদরসহ কুতুবপুর ইউনিয়নের আংশিক, চন্দনবাইশা, কর্ণিবাড়ী, বোহাইল ও কামালপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এসব ইউনিয়নের ৭৭টি গ্রামে ৫৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। উপজেলার মানিকদাইড় চরে পানি বাড়ার সঙ্গে শুরু হয়েছিল নদী ভাঙনও। সেখানে নদী ভাঙনের ফলে দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। যমুনার পানিতে সোনাতলাতে তিন ইউনিয়নের প্রায় ২১ হাজার মানুষ পানিবন্দি পড়েছিলেন। ওই উপজেলার পাকুল্লা ও মধুপুর ইউনিয়নের ২৫ গ্রামে ঢুকেছিল যমুনার পানি।
এছাড়া ধুনট উপজেলার আটটি গ্রামে যমুনার পানি প্রবেশ করেছিল। এতে প্রায় এক হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবন-যাপন করেন। ওই উপজেলার যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শিমুলবাড়ি, সহড়াবাড়ি, আটরচর, ভুতবাড়ি, পুখুরিয়া, রঘুনাথপুর, ভান্ডাবাড়ি ও কচুগাড়ি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছিল।
বন্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ৯ দিন পানিবন্দি ছিলেন বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জেলায় আরো দুই দফা বন্যা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে যমুনার পানি আরেকবার বিপদসীমা অতিক্রম করবে।
