জৌলুস ফিরেছে কামারপল্লীতে | সময় সংবাদ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, জুলাই ০৬, ২০২২

জৌলুস ফিরেছে কামারপল্লীতে | সময় সংবাদ

 

"জৌলুস ফিরেছে কামারপল্লীতে | সময় সংবাদ"

রনি আকন্দ, কালাই (জয়পুরহাট) 


সামনে ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার চাপাতি, দা, ছুরি, চাকু ও বঁটি তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়েছে জয়পুরহাটের কালাইয়ের কামারপল্লীতে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে কর্মব্যস্ততা ততই বাড়ছে। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। 

সরেজমিন ঘুরে দেখে গেছে, কালাইয়ের কামারপল্লীতে সারা বছরই চাহিদা থাকে লোহার সামগ্রীর। কিন্তু ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কয়লার আগুনে রক্তিম আভা ছড়ানো চাপাতি, বঁটি বা ছুরির উপর পড়ছে হাতুড়ির আঘাত। আঘাতের পর আঘাতে রূপ দেওয়া হচ্ছে চাপাতি, ছুরি, বঁটিসহ নানা ধরনের ধারালো জিনিসপত্রের। কেউ দিচ্ছেন শান, আবার কেউ সাহায্য করছেন অন্য সহকর্মীকে।



 

খাওয়া-নাওয়া ভুলে টানা কাজ করে চলেছেন তারা। কেবল সহকর্মীর সঙ্গেই চলছে একটু-আধটু কথা, তাও সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য। কেউ ওইসব লৌহজাত সামগ্রী তৈরি শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছেন। কেউ বসিয়েছেন দোকান। আকারভেদে বিভিন্ন দামে ছুরি, দা, পাগলু-১, পাগলু-২, চাপাতি, ছোরা, বঁটি বিক্রি করছেন। ফলে ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেড়েছে। 


তারা বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার ছুরি-চাপাতি এবং দা-বঁটির দাম বেশি।


অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোহা ও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব হাতিয়ার তৈরিতে অন্য বছরের চেয়ে খরচ বেড়েছে।


উপজেলার পুনট এলাকার কামার নির্মল কর্মকার বলেন, এ বছর সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। তবে মজুরির কোনো পরিবর্তন তেমন ঘটেনি। কাঁচামালের দাম বাড়লেও তৈরি পণ্য সেই অনুপাতে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা যাচ্ছে না। সারাবছর কম-বেশি আমাদের কাজ ছিল, এখন একটু বেশি কাজ করতে হচ্ছে। এক কথায় কোরবানির এ সময়টায় জৌলুস ফিরেছে কামারপল্লীতে।


ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ


ব্যবসায়ী লিটন কর্মকার বলেন, বহু বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকে ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু ভিন্ন কিছু করার অভিজ্ঞতা না থাকায় এ পেশায় পড়ে আছি। সবকিছুর দাম বেড়েছে, মানও বেড়েছে। এখন বাজারে একটি দা আকারভেদে ৩২০-৪৫০ টাকা, চাপাতি সাড়ে ২০০-৩০০ টাকা, ছোরা ১৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার বিভিন্ন সাইজের ছোট ছোরা ৩০-১০০ টাকা, বঁটি ২০০-৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।  


উপজেলার পুনটহাটে দা-ছোরা কিনতে আসা জাবেদ বলেন, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য একটা দা ৩২০ টাকা ও একটা ছোরা ১৩০ টাকা দিয়ে কিনলাম।


আরেক ক্রেতা মো. নুরুজ্জামান বলেন, নিজেরাই পশু জবাই করি। তাই লৌহজাত সামগ্রী কিনতে এসেছি। তবে এবার দাম অনেক বাড়তি।




Post Top Ad

Responsive Ads Here