সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক দুর্নীতির মামলা - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৫

সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক দুর্নীতির মামলা

 

সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক দুর্নীতির মামলা
সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক দুর্নীতির মামলা

শরিফুল হাসান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ মাতুব্বর (৪৮) এবং তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার (৪০)-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।


রবিবার (১২ অক্টোবর) দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ দুটি মামলা দায়ের করেন।


দুদকের দায়েরকৃত এজাহারে বলা হয়েছে, দুটি মামলাই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় করা হয়েছে। এসব ধারার আওতায় দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ভোগ দখল এবং সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদান অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।


ওয়াদুদ মাতুব্বর ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাকিয়ার গট্টি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আবুল হোসেন ও নুরজাহান বেগমের ছেলে।


মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাঁকে দুদকে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়। তিনি যে বিবরণী দাখিল করেন, সেখানে ৫৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেন।


এছাড়া তিনি দাখিলকৃত বিবরণীতে ২০ লাখ টাকার ঋণের তথ্য দেন, যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে এবং অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মোট ৫৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৬৪ টাকার সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগ দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে ওয়াদুদের বিরুদ্ধে।


দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অপরাধসমূহ ২০০২ সালের ৩০ মার্চ থেকে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত যেকোনো সময় সংঘটিত হতে পারে।


ওয়াদুদ মাতুব্বরের স্ত্রী রুমা আক্তার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামের মো. ইমামুল হোসেন ও আনোয়ারা বেগমের মেয়ে।


স্বামীর পাশাপাশি রুমা আক্তারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনিও দুদকে সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন। তবে দাখিলকৃত বিবরণীতে তিনি ৭৪ লাখ ৪১ হাজার ৮৯৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


এছাড়া, অভিযোগে বলা হয়, রুমা আক্তার অসৎ উদ্দেশ্যে এবং অবৈধ উপায়ে এক কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ১৩৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখেন।


এজাহারে আরও বলা হয়, এই অপরাধসমূহ ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত যেকোনো সময় সংঘটিত হয়েছে।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম বলেন, “ওয়াদুদ মাতুব্বর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সর্দার আবুল বাসার। তদন্ত শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবেন।


বিভিন্ন মামলায় গত পাঁচ মাস ধরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর কারাগারে থাকায় মামলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, রুমা আক্তারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।



Post Top Ad

Responsive Ads Here