![]() |
| চরফ্যাশনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির অভিযোগ |
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের সুলতান মিয়ার বাজার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরউদ্দীন বাবরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধান শিক্ষক জহিরউদ্দীন বাবর নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে মো. রুহুল আমিনের কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোহাম্মদ এরশাদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা এবং মো. সিদ্দিক হাওলাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তবে কাউকেই চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বরং ওই পদে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন বলেন, “চাকরির আশ্বাসে বাবর স্যার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান।”
মোহাম্মদ এরশাদ মিয়া বলেন, “৪ লাখ টাকা দেওয়ার পরও আমার নাম নিয়োগ তালিকায় নেই। টাকা চাইলে তিনি বারবার সময় নেন।”
সিদ্দিক হাওলাদার জানান, “দীর্ঘদিন ধরে বাবর স্যার বিদ্যালয়ে আসেন না। টাকা ফেরত চাইলে গত ২৬ নভেম্বর স্থানীয়রা তাকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করে। দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় চলে যান।”
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন ও তারেক হাওলাদার বলেন, প্রধান শিক্ষক ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জহিরউদ্দীন বাবরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর নজরদারিতে আছি।”
.jpg)
