![]() |
| সুরমা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কা |
হারুন অর রশিদ, দোয়ারাবাজার :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে একাধিক জনপদ। উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর, আশ্রাবনগর ও ইদনপুর গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিলেও সরকারি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশ পরিবার।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মানববন্ধনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সুরমা নদীর প্রবল স্রোতে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বর্তমানে ভাঙন এমন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঝুঁকির মুখে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জামে মসজিদ এবং আরও অর্ধশতাধিক বসতঘর। অনেক পরিবার আগাম গাছপালা কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কারও সাজানো বাগান চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই তিনটি গ্রাম রহস্যজনকভাবে প্রকল্পের বাইরে রয়েছে। তারা এই বৈষম্য অবিলম্বে দূর করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত এই তিন গ্রামকে প্রকল্পের আওতায় না আনা হলে ঐতিহ্যবাহী জনপদগুলো অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে এবং সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাবা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। সুরমা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী তালুকদার বলেন, “ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
মানববন্ধনের উদ্যোক্তা প্রবাসী তাসনিম আলম মিজান বলেন, “সুরমা নদীর ভাঙনে আমরা অস্তিত্ব সংকটে ভুগছি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নজির উদ্দিন মাস্টার, আব্দুল হান্নান, সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া, প্রবীণ সাংবাদিক এম এ করিম লিলু, সিরাজ মিয়া, এখলাছ মিয়া, এখলাছুর রহমান তালুকদার, আমীর আলী, সাইদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

