
কাস্টমস সার্ভার হ্যাকিং: নেপাল পালানোর পথে হ্যাকার আটক
মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিদেশি মদ ও সিগারেট খালাসের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত মূল প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী শেখ সেজান (২৬)কে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ জুলাই নেপালে পালানোর সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। তদন্তে জানা গেছে, এর আগে ভারত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে ভিন্ন নামে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই সতর্ক থাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ একটি চক্র চীন থেকে বন্ড সুবিধার মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কনটেইনারের মাধ্যমে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় সরকারের প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিএমপির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সনজয় কুমার সিনহা জানান, শেখ সেজান এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের অনলাইন পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে কাস্টমস কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার, সার্ভার নিয়ন্ত্রণ এবং জাল এলসি নিবন্ধনের মাধ্যমে পণ্য খালাসের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতেন। ২০২৪ সালের ২০ মে এক কর্মকর্তার আইডি ব্যবহার করে এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনা সংঘটিত হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শেখ সেজান একজন অভ্যাসগত সাইবার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারি ওয়েবসাইটের ক্লোন তৈরি ও সাইবার প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।
কাস্টমসের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনবিআরের সার্ভারে অন্তত ৪৮টি আমদানি চালান এবং প্রায় ৩ হাজার ভুয়া রপ্তানি চালানের ক্ষেত্রে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সাইবার অনুপ্রবেশ জাতীয় শুল্ক ব্যবস্থা ও রাজস্ব নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সেজানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
