
সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টার অভিযোগ
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত জমির একটি অংশ নিজেদের দাবি করে সনজিত কুমার দত্তের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশের জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে দত্ত পরিবার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত জমির একটি অংশ সনজিত কুমার দত্ত নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী তাঁর পক্ষে সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রভাব ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তাই কোনো পক্ষ যেন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অন্য পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
তবে হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সনজিত কুমার দত্ত। তিনি বলেন, তাঁর বাবা শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেছিলেন। বিদ্যালয়ের ভবন ও শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহৃত জমি নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না—এমন কিছু জমি দীর্ঘদিন ধরে অন্যরা দখল করে রেখেছেন। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের দখল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশে বিদ্যালয়ের ভবন ও সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত জমির বিরোধ নয়; এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের সম্পদ ও শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থও জড়িত। বিদ্যালয়ের সীমানা ও ব্যবহৃত জমি রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আদালতের রায়ভুক্ত জমির একটি অংশে বিদ্যালয়ের ভবন থাকায় বিদ্যালয়ের স্বার্থে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দবির উদ্দিন বলেন, আদালতের রায়ভুক্ত জমির মধ্যে বিদ্যালয়ের ভবন থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
