ফরিদপুরের কালোসোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ যাচ্ছে সারাদেশে - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, মার্চ ১৬, ২০১৮

ফরিদপুরের কালোসোনা খ্যাত পেঁয়াজের বীজ যাচ্ছে সারাদেশে

জেলা প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরে মাঠের পর মাঠ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শুভ্র সবুজ ফুলের বাগানে পতঙ্গের গুঞ্জন। তবে কয়েকটি এলাকায় ক্ষেতের পাশেই গড়ে ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটলেও সারাদেশের পেঁয়াজের বীজের চাহিদা মেটাতে চলতি মৌসুমে প্রস্তুত হচ্ছে ফরিদপুরের কৃষকের মাঠ । 

ফরিদপুরের পেঁয়াজের বীজের খ্যাতি দেশজুড়ে। বেশ কয়েকবছর ধরেই ফরিদপুরের এই বীজ দেশের ৭৫ ভাগ চাহিদা পূরণ করে আসছে। এবছরও মূল্যবান এই বীজের পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাষীরা এই বীজকে কালোসোনা হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন। 

জানা গেছে, ফরিদপুরের ৯টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে পেঁয়াজ বীজের। তাহিরপুরী বীজ থেকে লাগানো এই পেঁয়াজ আবারো মাঠ থেকে বীজ হয়ে কৃষকের ঘরে আসবে দু-এক সপ্তাহ পরই। কৃষকের প্রত্যাশা, এই মৌসুমে দু’শ মেট্রিকটন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করতে পারবেন তারা, যা গত তিন বছরের গড় ফলনকে ছাড়িয়ে যাবে। 

ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর গ্রামের বীজ চাষি মো.বক্কার খান বলেন, এ বছর বিশ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজের চাষ করছি। আশা করছি ভাল মানের বীজ উৎপাদন হবে। 

একই গ্রামের জলিল মোল্লা বললেন, এই অঞ্চলের বীজ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকার বিএডিসির মাধ্যমে সরবরাহ করে। কিন্তু বিএডিসির এবার আগের মতো বীজ সংগ্রহ করবে না বলে জানিয়েছে। 

তিনি দাবি করেন, বিএডিসি এবং বিভিন্ন ব্যাংক যদি কৃষকদের আরও বেশি সহায়তা করে তাহলে ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষ বেশি পরিমাণে  বীজ উৎপাদন করতে পারবেন। এতে সরকারকে অন্যদেশ থেকে পেঁয়াজের বীজ আমদানি করতে হবে না। 

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, এ বীজ উৎপাদন করে রবি মৌসুমে চাষীরা অধিক মুনাফা করেন। এই কারণে এই ফসলকে কালোসোনা হিসাবে অভিহিত করা হয়। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ জেলার পেঁয়াজ বীজ চাষীদের নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ  দিয়ে থাকে।

এই বীজের চাষ করে অনেক বেকার যুবক তাদের বেকারত্ব দূর করে এখন স্বাবলম্বি হয়েছেন। তাই পেঁয়াজের বীজের চাষ ফরিদপুরে অব্যহত রাখতে সরকারের আরো পৃষ্ঠপোষকতা আশা করছেন কৃষকেরা। অতি সতর্কতায় ও যতেœ উৎপাদিত বীজের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে, তবেই কৃষকের মুখে ফুটবে স্বস্তির হাসি।

Post Top Ad

Responsive Ads Here