শহিদুল ইসলাম, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন সন্তানের মাতা। মামলা তুলে নিতে দিচ্ছে প্রান নাশ সহ বিভিন্ন হুমকী।
মামলার বিবরণ ও বাদীর দেয়া বক্তব্যে জানা গেছে, ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে সাবিহা শারমিন(৩৬) যোগদান করেন। মামলার আসামী মুন্সি রুহুল আসলাম একই উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। চাকুরীর সুবাদে আসামী রুহুল আসলামের সঙ্গে সাবিহার পরিচয় হয় এবং আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে রুহুল আসলাম সাবিহাকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে সাবিহার আপত্তি সত্তেও শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। পরে শিক্ষিকা তাকে বিভিন্নভাবে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ২০১২ সালে হুজুর ডেকে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক তার এক বন্ধুর বাসায় বিয়ে করে আসলাম। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকে বলে জানায় সাবিহা। এ সময়ে সাবিহা কাবিন রেজিস্ট্রি করতে আসলামকে কয়েকবার চাপ দিলে প্রথম স্ত্রী মামলা করবে এবং তার চাকরী চলে যাবে অজুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যায় রুহুল আসলাম। ২০১৪ সালে সাবিহার গর্ভে এক পূত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে। সন্তানের জন্মের পরে কাবিনের জন্য চাপ দিতে থাকলে সময় অসময়ে স্বামী তার উপর শারীরিক নির্যাতন করতো বলে জানায় সাবিহা। এক পর্যায়ে আসলাম জানায় তাকে ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দেয়া না হলে কাবিন করবেনা এবং স্ত্রী হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেবেনা। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি অবগত হলে তিনি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে রুহুল আসলামকে নিয়ে তার অফিসে যেতে বললেও রুহুল আসলাম হাজির হয়নি। এর কিছুদিন পরে রুহুল আসলাম বদলী হয়ে মুকসুদপুর উপজেলায় যোগদান করেন। সাবিহা জানায় মুকসুদপুরের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও সে সফল হয়নি। অবশেষে সে বাধ্য হয়ে গত ৯ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে। প্রমান হিসাবে বিয়ের আগে ও পরে রুহুল আসলামের পাঠানো শতাধিক মোবাইল ফোন ম্যাসেজের ফটো কপি আদালতে দাখিল করে বলে জানায় সাবিহা। আদালত মামলা আমলে নিয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলেও টাকার জোরে প্রকাশ্যে মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে রয়েছেন। গত ৩ জুলাই সাবিহার আইনজিবী আদালতে ডিএনএ টেষ্ট-এর আবেদন করলে আদালত আসামীকে ডিএনএ টেষ্ট পর্যন্ত জামিন দেন। সাবিহা জানায় আদালত থেকে বেরিয়ে আসলাম তাকে বলেছে,মামলা তুলে না নিলে কোন টেষ্টই সে সঠিকভাবে হতে দিবেনা। আসলাম অর্থের বিনিময়ে ডিএনএ টেষ্ট পরিবর্তন করাতে পারে এমন আশঙ্কা করছে সাবিহা। এ বিষয়ে সে প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছে।
প্রাসঙ্গীক বিষয়ে আলাপকালে রুহুল আসলাম জানান,ঘটনাটি সত্য নয়। মুকসুদপুরের স্থানীয় এক প্রবীণ নেতা সহ কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে তিনি জানান,এসব লোকেরা সাবিহার পিছনে না থাকলে সে এ মামলা করতে পারতোনা। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আসলামের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান,্তার রুক্ষ মিজাজের কারনে তারা অনেকেই অসন্তুষ্ট,আর্থিক লোভও খুব বেশী। অন্যান্য কয়েকটি প্রশ্নেরও তারা নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ের একজন শিক্ষা কর্মকর্তা যার অধীনে শতশত শিক্ষিকা রয়েছেন,তারা কতটুকু নিরাপদ তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন এমন প্রত্যাশা করেছেন অনেকে।

