সোমেন মন্ডল, রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ
করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। তবে আগে থেকে জানা থাকায় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ
ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানার
নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন তারা। শুরুতেই নগরজুড়ে ছেয়ে গেছে নৌকার পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানারে।
তবে নৌকা প্রততিকের এর তুলনায় ধানের শীষের অনেক কম।
নির্বাচনী প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই অভিযোগ তুলেছন বিএনপি। তাদের
অভিযোগ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে কোন জায়গা না রেখে পুরো শহর নৌকার
পোস্টারে ছেয়ে দিয়েছে। নৌকার পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানার বেশী টাঙ্গানোর কারণে ধানের শীষের
পোস্টার সাঁটানোর জায়গা পাচ্ছেন না বিএনপি নেতাকর্মীরা।
তবে আওয়ামী লীগ বলছে, উৎসাহ-উদ্দীপনা না থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা
পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানার লাগানোর জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। এগুলো লাগানোর প্রচুর জায়গা
রয়েছে। পরিকল্পনার অভাবে তারা প্রচারে তারা পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়াও হলফনামায় পোস্টার,
ফেস্টুন ও ব্যানার ছাপানোর যে সংখ্যা বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে তা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর
চেয়ে অর্ধেকেও কম।
বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা (আওয়ামী
লীগের কর্মীরা) নগরীর প্রতিটি স্থান দখল করে নৌকার পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙিয়ে
দিয়েছে। অন্য দলের প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানোর মতো কোনও জায়গা
রাখেনি।’
বিএনপি’র এই অভিযোগের
জবাব রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা নিয়মনীতি মেনে
পোস্টার টানিয়েছে। তারা পরিশ্রম করে সুশৃঙ্খলভাবে নগরী পোস্টারে ছেয়ে দিয়েছে। আর বিএনপির
নেতাকর্মীদের মধ্যে সে উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। তারা শুধু অভিযোগ করতেই জানে। ভোট উৎসবের
পরিবেশটা তারা তেমন বোঝে না। আর বুঝবে কেমন করে। তাদের ভেতরে তো দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।
এতে করে নেতাকর্মীরা মাঠে নামেনি। আর আমাদের দলের নৌকা প্রতীকে সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাই
আমাদের প্রার্থীর পোস্টার দেখা যাবে না তো তাদের পোস্টার চোখে পড়বে?’
এর আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রাজশাহী
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মঙ্গলবার
নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার সময় বলেছেন, সদ্য সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের দুর্নীতির
শ্বেতপত্র প্রকাশ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত ফরম অনুযায়ী, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন
নগরীর নিউমার্কেট গৌরহাঙ্গা এলাকার বিকল্প অফসেট প্রেসে নৌকা প্রতীকের দেড় লাখ পোস্টার,
এক লাখ লিফলেট এবং ১৫ লাখ হ্যান্ডবিল ছাপবেন।
অন্যদিকে বুলবুল ধানের শীষের প্রতীকে ছাপাবেন ৬০ হাজার পোস্টার,
এক লাখ লিফলেট এবং ৩ লাখ হ্যান্ডবিল। নগর ভবন সংলগ্ন গৌরহাঙ্গা এলাকার প্রভাত প্রিন্টিং
প্রেস অ্যান্ড পাকলিকেশন এগুলো ছাপাবে।
হলফনামায় জানানো হয়েছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক
হোসেন বুলবুল ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা করে ব্যয় করবেন। লিটন খরচ করবেন নিজের তহবিল থেকে।
বুলবুল কিছু ব্যয় করবেন নিজের তহবিল থেকে, আর কিছু টাকা পাবেন বিভিন্ন জনের কাছ থেকে।
মেয়র পদের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে প্রধান দুই দলের দুই প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় অন্য
তিনজনের চেয়ে তিনগুণ হবে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নির্বাচনি ব্যয়ের ফরমে উল্লিখিত
বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

