নাহিদ হোসেন নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ঐ ইউনিয়ন পরিষদের ছয়জন ইউপি সদস্য । চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, অপশাসন, দুর্নীতি ও ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন ১নং ইউপি সদস্য মেহের আলী, ২নং ইউপি সদস্য আবু তালেব, ৩নং ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, ৫নং ইউপি সদস্য আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম, ৬নং ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল, ৮নং ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বড়সাঐল গ্রামে জনগণের পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো (সেতু) নির্মাণের কথা বলে ৬০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অথচ গ্রামবাসী নিজেদের বাঁশ, টাকা ও স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে ওই সাঁকো নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া গত ১৯ আগস্ট ১১৮ জন নারী-পুরুষের মধ্যে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা হাতিয়ানদহ জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি সদস্য নজরুল, চেয়ারম্যানের কর্মী ফারুক ও দফাদার নুহ আলম প্রতিজনের কাছ থেকে এক হাজার ৫০ টাকা করে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকা আদায় করেন। অভিযোগকারী এক ইউপি সদস্য মেহের আলী বলেন, চেয়ারম্যান নিয়ম কানুন ছাড়া তার ইচ্ছা মত পরিষদ পরিচালনা করছেন। সদস্যদের মতামত না নিয়েই ক্ষমতার অপ ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতা, অপশাসন ও দুর্নীতির কারনে এলাকার জনসাধারণ আজ অতিষ্ঠ। জনগনের সেবা করার জন্য জনগন আমাদের নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাদের মতামতরে কোন মূল্যই দেইনা। টাকা ছাড়া উনি কোন কাজই করেন না। জনগনের কাছে আমাদের মান সম্মান থাকছে না। তাই এর পরিত্রাণ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত করে এর সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।
তবে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বলেন, মেম্বাররা আমার কাছে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিতে পারেনা। তাই তারা আমার মান সম্মানের ক্ষতি করার জন্য এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। ‘আমি বাঁশের সাঁকোর জন্য কোনো টাকা তুলিনি। তবে এক হাজার ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে জনবান্ধব চুলা বিতরণের জন্য উপজেলা পরিষদের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে।’ এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

