ফরিদপুর প্রতিনিধি :
চোখের জল দিয়ে তো নয় জমি পেতে লাগে কাগজ সেই কাগজটি থাকতেও আজ তারা নিজ নামীয় জমিতে থাকতে লড়াই করছেন প্রতিনিয়ত। ভূমিখেকো কিছু দুষ্ট চক্র তাদের সেই নিজ বসতবাড়ি ও মাঠের কৃষি জমিতে বার বার থাবা দিয়ে জোর করে দখলে যেতে বড্ড মরিয়া। আর সেই কথা গুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরছিলেন ভুক্তভোগি অসহায় সংখ্যালুগু পরিবারটি চোখের জল দিয়ে।
চোখের জল দিয়ে তো নয় জমি পেতে লাগে কাগজ সেই কাগজটি থাকতেও আজ তারা নিজ নামীয় জমিতে থাকতে লড়াই করছেন প্রতিনিয়ত। ভূমিখেকো কিছু দুষ্ট চক্র তাদের সেই নিজ বসতবাড়ি ও মাঠের কৃষি জমিতে বার বার থাবা দিয়ে জোর করে দখলে যেতে বড্ড মরিয়া। আর সেই কথা গুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরছিলেন ভুক্তভোগি অসহায় সংখ্যালুগু পরিবারটি চোখের জল দিয়ে।
এসময় জমির মালিক খগেন চন্দ্র বিশ্বাস কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, বড় করুনময় আমাদের জীবন। গত তিন বছর যাবত লড়াই করছি নিজ জমিতে থাকতে। প্রতিবেশী মোঃ মজিবর সেন, তার ভাই কাদের সেন, মুহুরী সাইদি সেন ও লুৎফর সেন ভুয়া রেজিষ্ট্র বিহীন এক বায়না নামা তৈরি করে আমাদের সদরপুর উপজেলার ২৩ নং চরচাদপুর মৌজার আরএস ৭৯৫ ও ৯১০ নং খতিয়ানের ১২টি দাগের ৬.১৯ একর জমি দখলে নিতে চায়। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত এই জমি দেওয়ানী মামলায় ২১/১৯৮৮ ও ১৬১/৯৪ নং দুটি মামলায় আমরা ডিগ্রি লাভ করি। এই জমিতে আমরা অনাদিকাল থেকে বসত করে আসছি। এখন তারা তাদের দাবি করে। কিভাবে এটা হতে পারে এই দেশে। এখানে কি কোন অসহায় পরিবারের জন্য আইন নেই।
তার কন্যা চায়না বিশ্বাস চোখের জলে বলেন, আমার বাবার কোন পুত্র সন্তান নেই। আমরা দুবোন, এক বোনের নাম খিরোদা বিশ্বাস যে পিতার সাথে বাড়িতে থাকে। অপর মেয়ে আমি চায়না বিশ্বাস স্বামীর সাথে সদরপুরে বসবাস করি। হিন্দু আইনের ওয়ারিশে কন্যারা জমি পাই না এই সুযোগটি তারা নিতে চাচ্ছে।
এই কারনে গত কয়েকমাস আগে একবার আবার গত জুলাই মাসের ২৯ তারিখ সকালে প্রায় দুশ লোক নিয়ে তারা আমাদের বাড়ির জমিতে একটি ঘড় ও কৃষি জমিতে চাষ দেয়। এই সংবাদ সদরপুর উপজেলা নির্বাহী পূরবী গোলদারে কাছে জানালে তিনি দ্রুত সহকারী কমিশনার(ভূমি) সজল চন্দ্র শীল ও পুলিশ পাঠিয়ে ঘড়টি ভেঙ্গে দেয়। তিনি বলেন আমরা বাবা ও আমরা দুবোন এখন খুব ভয়ে আছি কখন আবার মজিবর সেন গং আমাদের উপর হামলা চালায়।
এ ব্যাপারে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী পূরবী গোলদার বলেন, ওই দেড় একর জমি মালিক খগেন বিশ্বাস হলেও জমিটি বর্তমানে সরকারী খাস জমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। খগেন বিশ্বাস একটি দেওয়ানী মামলা করে তার পক্ষে রায় পান। তবে খগেন বিশ্বাসের পক্ষে রায় পেলেও ওই জমিটির নামপত্তন না করায় সেটা সরকারী খাস জমি হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন অবৈধভাবে তোলা ঘরটি ভ্রাম্যমান আদালত গিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে। তবে মজিবর তার পক্ষে কোন কাগজ দেখাতে পারেনি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, খগেন বিশ্বাসকে নামপত্তন করার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। সে আবেদনপত্র পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের সম্মতির জন্য সেটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে নাম পত্তন করা হবে।
উল্লেখ্য ফরিদপুরে ভুয়া জাল দলিল ও ভুয়া রেজিষ্ট্রি নামায় ছেয়ে গেছে। এতে শত শত সাধারন মানুষ প্রতরনার স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়িত। বিষয়টি বার বার পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও কোন রকম ব্যবস্থা গ্রহন করছে না প্রশাসন।

