বস্তিবাসীদের জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

বস্তিবাসীদের জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

সময় সংবাদ ডেস্ক//
বস্তিবাসীদের জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাছাড়া বাসস্থানের পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বস্তিবাসীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, সেলাই শিক্ষা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন ও মাছ চাষের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষিতদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এ খাতে সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের শহরাঞ্চলে গৃহহীন বিপুলসংখ্যক মানুষ বস্তিতে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পাশাপাশি বস্তিকে কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে নগরকেন্দ্রিক অপরাধ চক্রও। মূলত এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মানুষের তত্ত্বাবধানেই নগরকেন্দ্রিক বস্তি তৈরি হয়। নদী ভাঙ্গন, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার অসহায়ত্ব এবং আরো কিছু পারিপার্শ্বিক কারণে বস্তিতে ঠাঁই নেয় সাধারণ মানুষ। বাসস্থান পাওয়ার পর এই মানুষগুলো অন্নের সংস্থানে যোগ দেয় নানা পেশায়। তার মধ্যে অপরাধ জগত এবং অনৈতিক কর্মকা-ও থাকে। ধীরে ধীরে ওই বস্তিই হয়ে ওঠে নগরীর ক্যান্সার। সেজন্য বস্তি নামের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। 

সূত্র জানায়, সারাদেশের বস্তির শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, সুপেয় পানিসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে। আর ওই প্রকল্পের কৌশলগত সহায়তা দিচ্ছে ইউএনডিপি (জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা)। স্থানীয় সরকারের অধীন ৩০টি সংস্থা, সুশীল সমাজ, এনজিও ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থাও প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত। ইতোমধ্যেই আড়াই লাখ বস্তিবাসীর জীবনমানের কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকই নারী ও শিশু। উপার্জনক্ষম নারীদের অনেকেই বস্তি ছেড়ে মোটামুটি ভাল জীবন-যাপন করছে। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকল উদ্যোগের একটি লক্ষ্য- বস্তিবাসীদের জীবনের মান উন্নয়ন এবং বস্তি ছেড়ে কর্মসংস্থান নিয়ে নাগরিক জীবনে ফিরে যাওয়া। সরকার আশা করছে, এসব উদ্যোগের ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বস্তির অভিশাপ থকে মুক্তি পাবে বাংলাদেশ।

সূত্র আরো জানায়, সর্বশেষ বিগত ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর করা তালিকা মোতাবেক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বস্তি আছে ১ হাজার ৬৩৭টি। ওসব বস্তিতে প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার বাস করছে। ওসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। বস্তিগুলোকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। পাঁচ থেকে পঁচিশ, ছাব্বিশ থেকে একান্ন, বায়ান্ন থেকে একশ’ ও একশ’ এক থেকে ততোধিক ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা বস্তি রয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বস্তিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হয়। বস্তিবাসীদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ছাড়াও ৭০টি এনজিও কাজ করছে। বস্তিবাসী ছেলে-মেয়েদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ হেলথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নারীদের বিভিন্ন হাতের কাজ শেখানোর প্রকল্প চালু আছে। তাছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ, সেলাই শিক্ষা, চকোলেট, মোম, আগরবাতিসহ ছোট ছোট জিনিসপত্র তৈরির শিক্ষা ছাড়াও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে। বস্তিবাসীদের উন্নয়নের জন্য নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে একশ’ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। বস্তিতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে। কর্মক্ষম যুবকদের নানা কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার কাজ চলছে। যুবকদের সহজ শর্তে বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। যাতে যুবকরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন সরকারি বা বেসরকারি জায়গায় একত্রে পাঁচটি দরিদ্র পরিবার বসবাস করলেই সেটি বস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। ওই সংজ্ঞায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউপিপিআর (আরবান পার্টনারশিপস ফর পোভার্টি রিডাক্সন প্রজেক্ট)-এর জরিপ অনুযায়ী দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ২১ ভাগ। তার মধ্যে ৮ শতাংশ মানুষ হতদরিদ্র। যাদের সত্যিকার অর্থেই বাড়িঘর নেই। এমনকি ন্যূনতম থাকার কোন জায়গা পর্যন্ত নেই। হতদরিদ্র মানুষরাই বস্তিগুলোর স্থায়ী বাসিন্দা। তাছাড়া বস্তিতে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ বসবাস করে। যাদের অনেকেরই থাকার মতো জায়গা আছে। তারা বিভিন্ন কাজের জন্য, মাদক ব্যবসাসহ নানাভাবে অর্থ রোজগার করতে বস্তিতে থাকে। তারা সত্যিকার অর্থে বস্তির প্রকৃত বাসিন্দা নয়। তারা বস্তিতে বসবাস করায় তাদের বস্তিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অন্যদিকে জরিপ মোতাবেক দেশের ২৪ জেলার ২৯ শহরে ৪৫ হাজার বস্তি আছে। প্রায় ৫ হাজার একর সরকারী জমির ওপরে ওসব বস্তি গড়ে উঠেছে। বস্তিগুলোর বেশির ভাগই ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, টঙ্গী, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, যশোর, কুমিল্লা, দিনাজপুর, নবাবগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সাভার. গাজীপুর, নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, পাবনা, চাঁদপুর, ফেনী, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরে অবস্থিত। তার মধ্যে টঙ্গী ও সাভার থানাধীন এলাকায় বস্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বস্তিবাসীদের জীবনমানের উন্নয়ন সম্পর্কে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জীননমানের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তার মধ্যে বস্তিবাসীরাও আছেন। তাদের জীবনমানের উন্নয়নের নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বস্তিবাসীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নারীদের নানাভাবে প্রশিক্ষিত করে আত্মনির্ভশীল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা মোতাবেক দেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এমনকি বস্তিবাসীরাও না। বস্তিবাসীদের জন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট তৈরি করে তাদের নামে বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here