মেহের আমজাদ, মেহেরপুর:মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে আয়েশা খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এক পুত্র সন্তানের জননী আয়েশা সোনাপুর গ্রামের বাপ্পরাজ আলীর স্ত্রী।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পরপরই স্বামী বাপ্পারাজ গা ঢাকা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সোনাপুর গ্রামের ঈদগাহ ও গোরস্থানের অদূরে একটি বাঁশ গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আয়েশার লাশ উদ্ধার করে পিরোজপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে আয়েশার দু’টি পা মাটিতে ঠেকে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন চলছে। আয়েশা খাতুনের ভাই একই গ্রামের সাকিবুল ইসলাম জানান, আমার বোন আয়েশা ছিল বাপ্পারাজের ৫ নং স্ত্রী। এর আগেও বাপ্পারাজ ৪ টি বিয়ে করেছিল। নির্যাতন সইতে না পেরে সে সব স্ত্রীরা নিজেই তালাক নিয়েছে। ৫ বছর আগে আয়েশাকে বিয়ের পর বাপ্পারাজ যৌতুকের দাবীতে ব্যর্থ হয়ে প্রায়ই নির্যাতন করে আসছিল। গক বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়েশার সাথে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। সন্ধ্যার দিকে আয়েশা তার স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাঠের কৃষকরা সোনাপুর ঈদগাহ-গোরস্থান সংলগ্ন একটি বাঁশগাছের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ দেখতে পায়। আয়েশাকে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। তাই নিজের দোষ ঢাকতে লাশ বাঁশগাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে । এ দিন দুপুরের দিকে পুলিশ আয়েশার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। পিরোজপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নিখিল চন্দ্র সরকার জানান, মরদেহ ময়না তদন্তের পর কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলা সম্ভব হবে। বাপ্পারাজ আলীর নিকট আত্মীয়রা জানান,আয়েশার পারিবারিক কাজ-কর্ম নিয়ে স্বামীর সাথে মনোমালিন্যের কারণে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

