ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১৩৯ বস্তা চাল উদ্ধার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১৩৯ বস্তা চাল উদ্ধার


ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় চাল বিতরণের জন্য প্রস্তুতকৃত সুবিধাভোগী হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগে তিনজন ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিকট হতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ১৩৯ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে) চাল উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি এব্যাপারে অত্র ইউনিয়ন থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলারশীপ বাতিল হওয়া ওই তিনজন হচ্ছেন, গিয়াসউদ্দিন মোল্যা, রবীন্দ্রনাথ সাহা ও মুকুল মিয়া।


বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহম্মেদ বলেন, গত ১৪ এপ্রিল ঘোষপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল বিতরণে অনিয়মের একটি অভিযোগ করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট। এরপর বিষয়টি সরোজমিনে তদন্ত করে সুবিধাভোগী হতদরিদ্রদের তালিকায় একই নাম দুইবার সংযোজন করা হয়েছে এরকম ১৯৩ জনের নাম দেখতে পাই। এ প্রেক্ষিতে ওই তিনজন ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। 


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, আমাদের কাছে বিষয়টি আসলে এটি তদন্তের জন্য পাঠায়। এতে তিনজন ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল ও ১৩৯ বস্তা চাল উদ্বার করা হয়। বিষয়টি ডিলারদের কাছে জানতে চাইলে তারা নিজেরাই করেছে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে আরো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরো বলেন এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।   


উল্লেখ্য বিষয়টি নিয়ে এরআগে ঘোষপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেছিলেন, বিগত ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মনগড়া তালিকা করে এসব নামের বিপরীতে চাল তুলে আত্মসাত করছেন। ওই ইউনিয়নে ১১৫৬ জনকে কার্ড দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ কার্ড সংশ্লিষ্টদের হাতে না দিয়ে অত্র ইউপি চেয়ারম্যান নিজের কাছে রাখে বলে অভিযোগ উঠে। এরপর অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগেই গত মার্চ মাসে তিনি আগের তালিকার এক-তৃতীয়াংশ নাম বাদ দিয়ে নিজের মনমতো নতুন নাম দিয়ে তালিকা প্রনয়ন করেন।


তার প্রাপ্ত অভিযোগ মতে, প্রতি ওয়ার্ডে মেম্বারদের থেকে ৫০ জনের নাম নেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০ জনেরও বেশি নাম দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। যাদের অনেককে কার্ড না দিয়ে তাদের চাল তুলে নেয়া হয়েছে। এদের অনেকে তাদের নামে কার্ড ইস্যুর বিষয়টিও জানেননা। তারা চালও পাননি। ৯ নং ওয়ার্ডের ৯৯৫ নম্বর কার্ডের গৌতম কুমার মন্ডল, ৭ নং ওয়ার্ডের গফফার শেখ সহ আরো বলেন, চাল পাওয়াতো দুরের কথা তাদের নামে কার্ড ইস্যুর বিষয়টিই তারা জানেন না। ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার শহিদুল মাতুব্বর বলেন, আমার ভাইয়ের নামে কার্ড করে চাল তুলে নিয়েছে।


এ ব্যাপারে ঘোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন তখন এ বিষয়টি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেছিলেন আমি আবারো নতুন করে তালিকা সংশোধন করে জমা দিয়েছি। বিষয়টি মীমাংসা করা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি বোয়ালমারীতে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়টির সাথে তিনি জরিত নন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন আমি বিষয়টি জানার পর আমি নিজেই এটা বন্ধ করে দিয়ে নতুন তালিকা জমা দিয়েছি।

Post Top Ad

Responsive Ads Here