চোখের সামনে মাকে ১৮ আঘাতে খুন, পাশে পড়েছিল শিশুর লাশও - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২০

চোখের সামনে মাকে ১৮ আঘাতে খুন, পাশে পড়েছিল শিশুর লাশও


 সময় সংবাদ ডেস্ক//
শিশু রিফাতের চোখের সামনে ১৮ আঘাতে খুন করা হয় মা গুলনাহারকে। আর সেই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী ৯ বছরের শিশুও ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি। মায়ের পর রিফাতকেও নির্মমভাবে খুন করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় চান্দগাঁও ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের বিপরীতে রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকায় খুন হন ভাড়াটিয়া গুলনাহার বেগম ও তার ছেলে রিফাত। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট তাদের লাশ ও আলামত সংগ্রহ শেষে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গুলনাহারের শরীরজুড়ে ধারালো ছুরির ১৮টি আঘাত মিলেছে। পেটের বাম পাশে দুটি আঘাত করা হয়েছে। এতে তার শরীর থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে পড়ে। বাকি আঘাতগুলো দুই উরু, তলপেট আর হাতে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, খুনের শিকার হওয়ার আগে জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ লড়েছেন গুলনাহার বেগম। আর মায়ের হত্যাকাণ্ড দেখায় ৯ বছরের শিশু রিফাতকেও খুন করা হয়। তার লাশ মাত্র দুই ফুট দূরে রাখা হয়েছে। মায়ের লাশ বাথরুমের ভেতরে পড়েছিল আর রিফাতের লাশটি দরজার লাগোয়া বেসিনে উপুড় হয়ে পড়েছিল। রিফাত হত্যাকাণ্ডের সময় তার কণ্ঠনালী কেটে ফেলার পাশাপাশি ছুরি দিয়ে হাতে দুটি আঘাত করা হয়।

গুলনাহারের মেয়ে ময়ূরী আক্তার জানান, বহদ্দারহাট খাজারোড়ের সিরাজ কসাইয়ের ছেলে ফারুকের সঙ্গে তার মায়ের পাতানো ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল। পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ফারুক অবসর সময়ে তার মায়ের বানানো নাস্তা বিক্রি করতো। লকডাউনের সময়েই একইভাবে বিরিয়ানি বিক্রি করছিল তাদের পাতানো মামা। কিন্তু লেনদেন নিয়ে তার মাকে হত্যার হুমকি দিতো ফারুক।

প্রতিবেশীরা জানান, গুলনাহারের স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে বসবাস করছেন। গুলনাহারের সংসারে এক মেয়ে ও দুই ছেলের জন্ম হয়। এক ছেলেকে বাবা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে গুলনাহার গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মেয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি পাওয়ার পর ঘরে নাস্তা বানানোর কাজ শুরু করেন তার মা। আর সেই নাস্তা পাতানো ভাই ফারুক বিক্রি করতো। কিন্তু ফারুকের সঙ্গে গুলনাহারের ঝগড়া শুনেছেন প্রতিবেশীরা।

ঝগড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেয়ে ময়ূরী। তিনি জানান, ফারুক তাদের ভালো চলাফেরা দেখতে পারতো না। ইন্ডিয়ান টিভি সিরিয়াল সিআইডির মতো করে খুন করে লাশ প্যাকেট করে নোয়াখালী পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিতো। ময়ূরীর বাবার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় হলেও নানাবাড়ি চকবাজার থানার ঘাসিয়াপাড়া এলাকায়।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এসএম মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তগুলোর বিবেচনায় সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। আশা করছি খুনিকে দ্রুত সময়ে আইনের আওতায় আনতে পারব।



Post Top Ad

Responsive Ads Here