ফরিদপুর প্রতিনিধি :
তিনি নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহন করেন। কে জানতো এটাই কাল হবে নীতি নৈতিকতা নিয়ে থাকা ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের জন্য। শুনতে হলো হিন্দু হয়েও রাজাকার সহ নানা অশ্রাব্য ভাষা ফরিদপুর ৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরীর কাছ থেকে। এরই মধ্যে এই গালিগালাজের ভিডিও সারাদেশে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। দেশের বিসিএস কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে এমন ভাষা শুনে।
এদিকে একই দিনে চরভদ্রাসন উপজেলা উপনির্বাচনে ডিইটি পালনকারী এক সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাল ভোট দেওয়া ও কেন্দ্রে সিগারেট খাওয়ার জন্য একজনকে আটক করে। আটকের খবর পাওয়ার সাথে এমপি চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী নারী কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে হুমকি সহ নানা বাজে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। সেই ফোন কলের অডিওটি সারাদেশে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
এরই মাঝে কথা উঠেছে একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য হয়ে তিনি কিভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারেন সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে। তার এহেন আচরন ভিডিও এবং অডিও এখন ফেসবুক ও ইউটিউবে ভেসে বেড়াচ্ছে।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী এক সরকারী কর্মকর্তা বলেন, এমপি মহোদয়ের মনোনিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পরও তার এহেন আচরন অনিভিপ্রেত। আমরা সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে যতœ নিয়ে কাজ করেছি। একটি নির্বাচন সুষ্ট করার উদ্যোগ এবং তার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পরও এমন গালিগালাজ দুঃখজনক। নির্বাচন সুষ্ঠ করার প্রচেষ্টা থাকা কি অপরাধ। তিনি তাহলে কি চেয়ে ছিলেন বলে প্রশ্ন রাখেন।
এদিকে ফোনালাপটি নিজের নয় বলে দাবি করেছেন এমপি নিক্সন চৌধুরী। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এগুলো সব বানানো। আমার ভয়েস না। এগুলো সরকার আর প্রশাসনের মধ্যে একটা গণ্ডগোল লাগানোর বুদ্ধি।তিনি বলেন, শেখ আরাফাত নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত এক বছর ধরে এসব বানিয়ে আমার নামে ছড়ানো হচ্ছে। শেখ আরাফাত কাজী জাফরুল্লাহর লোক বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার মূল বিবরন :
গত শনিবার অনুষ্ঠিত ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সংসদ সদস্যর প্রার্থী বিজয় হওয়ার পর বিজয় সমাবেশে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারী উচ্চরান করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী। চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সাংসদ নিক্সন তার বক্তব্যে বলেন, প্রশাসনের মধ্যে লুকাইয়া থাকা ওই জেলা প্রশাসক এ নির্বাচনে ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নৌকার কর্মীদের এ্যারেস্ট করছে পিটাইছে ওই জেলা প্রশাসক। ‘ওই জেলা প্রশাসক একজন রাজাকার’-মন্তব্য করে সাংসদ বলেন, তা না হলে মাত্র চারটি ইউনিয়নে ১২জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে আমার নেতা-কর্মীদের যেখানে পাইছে সেখানে আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে। (উল্লেখ্য একটি ভোট কেন্দ্রে ভোটের আগে রাতেই চারশত সিল যুক্ত ভোট দিয়ে বাক্স ভরে রাখা হয়। এরপর সেই ভোট কেন্দ্রের বাক্সে সকালে পাওয়া গেলে কেন্দ্রটি বাতিল করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা।)
নিক্সন বলেন, জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্য বলবো, আপনি যত বড় উপদেষ্টার লোক হোন না কেন আপনি নিক্সন চৌধুরীর সাথে চোখ রাঙাইয়া কথা বলবেন না। আমি যদি আমার জনগণ নিয়া আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামি, আমি যদি নেতা কর্মীদের নিয়ে নামি তবে আপনি এক মিনিট দম নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
বক্তব্যের এই পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে যাবতীয় আপত্তিকর শ্লোগান দিতে শুরু করেন নিক্সনের সমবেত অনুসারীরা। যা তিনি এসময় হাত উচিয়ে নির্দেশনা দেন তাদের প্রতি করতে।
সাংসদ নিক্সন আরও বলেন, এমন কত উপদেষ্টা দেখলাম মিয়া, জাফরউল্লাহ কাজীরই বেল নাই আর আপনি উপদেষ্টার ভয় দেখান।
ইউএনও এর সাথে ফোন কল-
এর আগে নির্বাচনের দিন নির্বাচন চলাকালীন কোন এক সময় চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা সাথে সাংসদের অশ্রাব্য ভাষায় কথনের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বুথের ভিতর সিগারেট খাওয়া ও জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করায় একজনকে আটক করা হয়। সাংসদ ফোনে আমাকে হুমকি ধামকি দিলে আটকৃকতকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি (এমপি) ইউএনওর ফোনে ওই সময় দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারি কমিশনার ভূমিকে উদ্দ্যেশে করে বলেন ‘ শুয়ারের বাচ্ছ, কুত্তার বাচ্ছা.... আমার লোকদের গাড়ীতে উঠায়ছে ক্যান’ ‘এখনই ছাড়তে বলেন’। ওর কত বড় সাহস শুয়ারের বাচ্ছা, আমি চরভদ্রাসন ৫ মিনিটের মধ্যে আসতেছি, ওরে আমি দেখতেছি’। তিনি এসময় আরো বলেন ওর বাবা সিগারেট খাই না। এদিকে এই ফোন কলটিও সারাদেশে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
শনিবার চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মোট সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেন। তবে নির্বাচনের আগে বিএনপি ও স্বতন্ত্র দুইজন প্রার্থী সরে দাঁড়ান।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাওসার হোসেন (নৌকা) ১৬ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বারী দিপু পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৪৬ ভোট।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আযোজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৬ অক্টোর চরভদ্রাসন উপজেলার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরিত ‘চরভদ্রাসন উপজেরা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন ২০২০ উপলক্ষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট নিয়োগ প্রসঙ্গে’-এক আবেদনে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধি প্রতিপালন ও আঈনৃংখলা রক্ষার জন্য চারজনসহ মোট ১২জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
সে প্রেক্ষিতে এ উপনির্বাচনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ম্যাজস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেশি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচনে কি সমস্যা হয় তা বোধগম্য নয়।
সাংসদ মুজিবর রহমান নিক্সনের হুঁশিয়ারী বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি তিনি তাঁর উর্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কেমন ছিলো নির্বাচন-
শনিবার অনুষ্টিত এ নির্বাচন ভোটারবিহীন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। উপ-নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত চরভদ্রাসন উপজেলা চত্বরের আশেপাশে কয়েকটি সেন্টারে ভোটারের উপস্থিতি হাতেগোনা থাকলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে ভরে উঠতে থাকে বাক্স। এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক প্রশ্ন ছুড়ে বলেন ভোটার বিহীন নির্বাচনে এতো ভোট দিলো কে? এসব ভোট কেন্দ্রে বিরাধী শিবিরের কোন এজেন্ট এসময় ভোট কেন্দ্র গুলোতে দেখা যায়নি। নৌকা মার্কা ও নৌকা মার্কার সমর্থক আনারস প্রতিকের এজেন্টরা অনেক বুথে মূল কাজটি করেছেন পরির্দশনে গিয়ে দেখা যায়। তবে সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রের কক্ষের বাইরে আটকে দেয় প্রশাসন। তারপরেও জানলা দিয়ে কিছু চিত্র চোখে পড়ে। এছাড়া জাল ভোট দেওয়ার সময় সদরের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫ জনের মতো আটক করা হয়। একই চিত্র বিরাজ করছিলো সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সেখানে আনোয়ার মোল্যার নেতৃত্বে ভোটার বিহীন অবস্থায় ভোট বাক্স সময় গড়ানোর সাথে সাথে ভরে উঠতে থাকে। ভোট কেন্দ্র গুলোর আশে পাশের অনেকের সাথে কথা হলেও তারা ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। তাদেরকে এসময় কেন ভোট দিতে যাবেন না প্রশ্ন করা হলে তারা ভোটের রেজাল্ট কি হবে তারা আগেই জানেন বলে উত্তর দেন। উত্তর আলম নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দেওয়ার সময় দুজনকে আটক করা হয়। চরভদ্রাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই চারশত সিল মারা ব্যালট পাওয়া যাওয়ার পর ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা ছাড়াও নৌকা সমর্থক প্রার্থীর এজেন্টরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সামনেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভরতে দেখা গেছে। সাংবাদিকেরা এসব কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাদেরও বাধা দেয়া হয় পেশাগত দায়িত্বপালনে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক নজরদারির ব্যবস্থা নেয়। জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণও নিযুক্ত করা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
ভোট গ্রহণ চলাকালে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে নৌকা ও আনারসের বাইরে অন্য কোন প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে দেখা যায়, নৌকার ব্যাজ পরিহিতরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন কক্ষে ঢুকছে ও বেরুচ্ছে। নারীদের ভোট কক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রায়হান শেখ নামে আনারসের একজন এজেন্ট কাজী নাহিদা সুলতানা নামে একজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার নিকট হতে ব্যালট পেপারের বান্ডিল নিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে।
ওই কেন্দ্রের অন্যান্য কক্ষে যেয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নেই। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথেই ব্যালট বাক্সগুলো ভরে উঠছে। কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার শরীফ মোঃ মুর্তজা আহসান জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ৫শ ১০ টি ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তার নিকট কেউ অনিয়মের কোন অভিযোগ করেনি।
একই চিত্র ছিলো আদর্শ ম্যাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেখানে একটি ভোট কক্ষে আনারস প্রতিকের এজেন্ট সিদ্দিক ভোট কেটে কেটে নৌকা প্রতিকের এজেন্ট তোফাজ্জল এর নিকট দিচ্ছে আর তিনি বাক্সে ফেলছেন। এসময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলেও কোন রকম ভয়ভীতি তাদের ভিতর লক্ষ্য করা যায়নি। এ কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে ছিলো একই চিত্র।
এব্যাপারে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ওবায়দুল বারী দিপু খান নির্বাচন বয়কট করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তার লোকজন জনমনে একটি চরম ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে ভোটাররা ভোট দিতে আসতে ভয় পায়। এই সুযোগে তাদের বাহিনীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই জাল ভোটের মহোৎসব চালায়।
তবে নৌকা প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাউছার বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও গরমের কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কম হয়েছে। তিনি তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো প্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল খান দিপুর বিরুদ্ধে হরিরামপুর ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্র হতে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন।
জেলা প্রশাসনের ক্ষোভ:
এদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিশেন ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে রোববার দুপুরে জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বলা হয়, জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে মানহানিকর ও অশোভন উক্তি সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়কারী জেলা প্রশাসনের জন্য অবমাননাকর। এ ধরনের বক্তব্য স্থানীয় জনগণের মাঝে একদিকে যেমন সরকারের সার্বিক সাফল্য সম্পর্কে ভুল বার্তা প্রেরণ করে, অন্যদিকে মাঠ প্রশাসনে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পথেও চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সব সদস্য এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সভার কার্যবিরণীর চিঠি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদসহ সংশ্নিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

