যশের প্রভাবে খুলনায় বৈরি আবহাওয়া, ভেঙেছে বেড়িবাঁধ - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

মঙ্গলবার, মে ২৫, ২০২১

যশের প্রভাবে খুলনায় বৈরি আবহাওয়া, ভেঙেছে বেড়িবাঁধ


 


সময় সংবাদ ডেস্কঃ


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় যশের প্রভাব এবং ভরা পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঙছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। এরমধ্যে খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকার বাঁধ ভেঙে এবং উপচে লোকালয়ে নোনা পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় মানুষ বাঁধ ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও তা বেশির ভাগ স্থানে সম্ভব হচ্ছে না। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


ঘূর্ণিঝড় যশের প্রভাবে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে খুলনাঞ্চল জুড়ে। থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। সময় যতো যাচ্ছে ততোই বাতাসের তীব্রতা বাড়ছে। নদীতে বাড়ছে জোয়ারের পানি এবং উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ‘যশের’ ধেয়ে আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ‘আম্ফান’ বিধ্বস্ত খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবাসী। দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ও বাঁধের কাছাকাছির বাসিন্দারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। মানুষের মধ্যে জলোচ্ছ্বাস ও বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক বিরাজ করছে।



এদিকে কয়রা উপজেলার আংটিহারা, মটবাড়ি, গোবরা ঘাটাখালী, কয়রা সদরের তহশিল অফিস সংলগ্ন বেড়িবাঁধ, দশহালিয়া, কাটকাটা, কাশিরহাটখোলা, দাকোপের নলিয়ান ও আন্ধারমানিক এলাকা, পাইকগাছার গড়ইখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে নদীতে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় মানুষ বস্তা এবং মাটি দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে পাউবো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীতে স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দেড় মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।


খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ ও ২’এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, খুলনাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির স্বাভাবিক মাত্রা থাকে ৩ মিটারের কাছাকাছি। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ঠ জলোচ্ছাস এবং পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে আরো দুই ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়িবাঁধগুলো ৪ মিটার পানির উচ্চতা ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। তবে কোথাও কোথাও বাঁধের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তা অনেক নিচু অবস্থায় রয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। তবে পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জিওব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে।


তিনি আরো বলেন, আগামী দুইদিনে পানির উচ্চতা আরো বাড়তে পারে। এর সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হলে পানি আটকানো সম্ভব হবে না।


খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় বুধবার আঘাত হানার আশঙ্কা প্রবল। মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ঘণ্টায় ৫/৬ কিলোমিটার বেগে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। যশের প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যা বুধবার ও বৃহস্পতিবার অব্যাহত থাকবে।


ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।



কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, সোমবার রাত থেকে কয়রায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নদীতে ভাটা শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবারো জোয়ার শুরু হয়।


তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে যশের প্রভাবে জোয়ারে জলোচ্ছ্বসের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় মাইকিং করাসহ স্বেচ্ছাসেবীরা লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করছে।


কোস্টগার্ড উপকূলীয় এলাকার পশ্চিম জোনের আওতায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জোনের সব নদীতে মাছ ধরা নৌকা, ট্রলার ও কার্গো জাহাজ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ঝড় সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনামূলক প্রচারণার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার হতদরিদ্র অসহায় মানুষদের আশ্রয় পৌঁছানো ও জরুরি ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে এবং মাইকিং করাসহ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here