সময় সংবাদ ডেস্কঃ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ধরাশায়ী সবাই। এর পাশাপাশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস রোগ। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হোয়াইট ফাঙ্গাসও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই খুব উদ্বেগজনক খবর জানিয়েছে দেশটির উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের এক হাসপাতাল। সেখানে নথিভুক্ত করা হয়েছে ইয়েলো ফাঙ্গাস; যা ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাসের চেয়েও ক্ষতিকর।
ইয়েলো ফাঙ্গাস এক ধরনের মারাত্মক রোগ। এতে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। কারণ এটি শরীরের ভেতরের অংশে বেশি ক্ষতের সৃষ্টি করে। তাই কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করানো প্রয়োজন।
ইয়েলো ফাঙ্গাসের কারণ
হাইজিন মূলত ইয়েলো ফাঙ্গাস সংক্রমের কারণ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবেই এই ছত্রাক শরীরে বাসা বাঁধছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বাসি খাবার-দাবার খাওয়াও এই সংক্রমণের অন্যতম কারণ।
বাড়ি ও আপনার চারপাশের পরিবেশ যতটা সম্ভব সবসময় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। পুরনো খাবার ফেলে দিন। এছাড়া বাড়িতে আবর্জনা জমা থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। যাতে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস না জন্মায়। ঘরের আর্দ্রতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্যাঁতস্যাঁতে ঘর মানেই ছত্রাকের বাসা বাঁধার সুবিধা। ঘরের আর্দ্রতা রাখতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে।
ইয়েলো ফাঙ্গাসের উপসর্গ
* ক্ষুধা কমে যাওয়া বা না খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাওয়া।
* ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়া।
* অনেক বেশি শরীর ক্লান্ত হওয়া।
* ক্ষতস্থান ঠিক হতে স্বাভাবিকের চেয়ে সময় বেশি নেয়া।
* বেশি সংক্রমণ হলে ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বেরিয়ে আসা।
ইয়েলো ফাঙ্গাসের হানায় কী ক্ষতি হতে পারে?
* বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়তে পারে।
* চোখ ধীরে ধীরে বুজে আসে।
* শরীরের কোনো অংশে পচনও ধরতে পারে।
ইয়েলো ফাঙ্গাসের চিকিৎসা
ইয়েলো ফাঙ্গাসের একমাত্র চিকিৎসা অ্যাম্ফোটেরিফিন বি (Amphotericin B) ইঞ্জেকশন।
স্বাভাবিকভাবেই ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাসের পর এই করোনাকালে নতুন করে চিন্তা বাড়ালো ইয়েলো ফাঙ্গাস সংক্রমণ। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

