প্রতিবন্ধীর টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

প্রতিবন্ধীর টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে

 



ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্প “কর্মসৃজন”যেন এক লুটপাটের মহা কর্মসূচি।ইউপি চেয়ারম্যোনরা পিআইওদের সহায়তায় যাচ্ছেতাই করে যাচ্ছেন।


ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগনও বিষয়টি কেয়ার করছেন না।ফলে প্রকল্পের শ্রমিকের তালিকায় প্রবাসী,চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী,সচ্ছল ব্যক্তি কিংবা চেয়ারম্যান মেম্বরের স্বজনদের নাম বসিয়ে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।ব্যাংক থেকে তাদের নামে উঠে যাচ্ছে প্রকল্পের টাকা।


অভিযোগ পেয়ে সরোজমিনে গিয়ে প্রকল্প সদ্দারকে সাথে নিয়ে অভিযোগ কারিদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান,তখনই মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়,ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন,কুরবান আলি ও জাহাঙ্গীর এর সাথে কিন্তু তারা কেও যেতে রাজি হয়নি,তখনই বুঝতে বাকি থাকে না কিছু। 


ফেরার পথে দেখা হয়,সহজ সরল শারিরীক প্রতিবন্ধী নয়ন এর সাথে পিতা মানুয়ার,দেখে সহজসরল হলেও বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য,তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী যেতে থাকি চালাক চতুর রঙ্গিলার বাড়ি,স্বামী ইসমাইল,প্রথমে তিনি কিছু জানাতে না চাইলেও কিছুক্ষন পরে জানান,ভয়েভয়ে বলেন,আপনাদের জানালে চেয়ারম্যান আর পরে কাজে নেবে না বলে নিষেধ করেছে,কি কথা? বলেন,ওইযে টাকা কেটে নেওয়ার কথা। মূহুর্তের ছুটে আসে ছোট্ট স্বামী ফরমান আলি,ছোট্ট আড়াল করতে চাইলেও প্রতিবাদি ফরমান আলি সবি বলতে থাকেন,তবে ক্যামেরা করতে নিষেধ! ঐযে আর কাজে নেবে না। ক্যামেরা আড়াল করলে তিনি জানান,মাত্র ৬- ৭ জন শ্রমিক নিয়ে ভালো রাস্তা চেচেছুলে সময় পার করেছে।অনেকের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।


জানতে চাওয়া হয় তাহলে তো আপনাদেরই ভালো হয়েছে কাজ করতে হয় নাই,এমনি এমনি টাকা পেয়েছেন।বলেন টাকা পেলেতো কোন ঝামেলা থাকতো না,ত্রিশ তিন কাজ করে ২২৫০ টাকা পেয়েছি,অন্য আরেক জন বরেন,আমি পেয়েছি, ২২৫০+ ১৩০০+১০০০ টাকা,যোগকরে ৪৫৫০টাকা হয়,অথচ আমি পাবো ৮০০০ টাকা,সবি কেটে নিয়েছে। 


এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে ফলাও করে তুলে ধরা হলেও এখনো কোন সুরহা হয়নি বলে অভিযোগ সুবিধাবঞ্চিতদের।


হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রথম দফায় ৮০ দিনের কর্মসূচির জন্য ৪৮টি প্রকল্পের অনুকূলে এক হাজার ২১২ জন শ্রমিকের দিন হাজিরার মজুরি বাবদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই টাকা ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে।আবার যে সকল শ্রমিক এসব কাজ করেছে তাদের নিকট থেকেও টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে,এ যেন কে কত টাকা আত্তসাৎ করতে পারে তার প্রতিযোগিতা।


ব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে,সপ্তাহে ৫ দিনে এক হাজার টাকা করে ৪০ দিনে আট হাজার টাকা মজুরি পান শ্রমিকরা। সর্বমোট ৮০ দিনে পান ১৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের সরদারের মজুরি প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে সপ্তাহে ১২০০ টাকা।


এ বিষয়ে কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন সাহেব বলেন,আপনি চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলে নেন।


অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সরাফত দৌলা ঝন্টু জানান,কাজ না করলেতো টাকা কেটে নেওয়া হবেই,প্রকল্প কর্মকর্তা পরিদর্শনে এসে যাদের পাই নাই তাদের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।


হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ জামাল হুসাইন বলেন, আপনারা যা ইচ্ছা তাই বলতে পারেন,আমি কিভাবে টাকা কেটে নেবো,যার টাকা সে তুলে নিজে রাখবে না ব্যাংকে রাখবে,না কাউকে দিবে সেটা তার ব্যাপার,পরিশেষে তিনি জানান,পরিদর্শন কালে উপস্থিত না থাকায় টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here