সময় সংবাদ ডেস্কঃ
খুলনার চার হাসপাতালে গত দু’দিন মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসছিল; হঠাৎ করেই দ্বিগুণ প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। খুলনার চারটি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৭ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে ১৫ জন, শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের করোনা ইউনিটে তিনজন, জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুজন এবং গাজী মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৮ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনায় মৃতরা হলেন- খুলনার শিরোমনি এলাকার মীর আ. গফুর, দিঘলিয়ার জাহানারা), নবীজা, ঝিনাইদহ মহেশপুরের হোসনেয়ারা খাতুন, পিরোজপুরের কাওখালীর হাসি রানী, ঝিকরগাছার মুক্তা, মোল্লাহাটের চানমিয়া ও বাগেরহাটের হাফিজ শেখ। এছাড়া উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০৬ জন। যার মধ্যে রেড জোনে ১৪১ জন, ইয়ালো জোনে ২৬ জন, আইসিইউতে ১৯ জন এবং এইচডিইউতে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ জন।
খুলনার শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. প্রকাশ দেবনাথ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন খুলনার দিঘলিয়ার সোলায়মান, পাইকগাছার জমিরউদ্দীন ও যশোর শার্শার কুতুবউদ্দিন।
এছাড়া করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ৪২ জন। তার মধ্যে আইসিইউতে রয়েছে ১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ জন।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন খুলনার বটিয়াঘাটার সুচিত্রা ও নড়াইল লোহাগাড়ার সরুলিয়ার শামসুন্নাহার।
এছাড়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৬ জন, তার মধ্যে ২৯ জন পুরুষ ও ৩৭ জন মহিলা। গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুজন।
বেসরকারি গাজী মেডিকেল হাসপাতালের স্বত্তাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃত দুইজন হলেন খুলনার কয়রার হাতিয়ারডাঙ্গার নীতিশ কুমার বাছাড়, তেরোখাদা দাউদ আলী তালুকদার, ফুলতলার শিরোমনির মিয়া মাহমুদুর রহমান ও যশোর সদরের রোজি।
হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো ৯৪ জন। এরমধ্যে আইসিইউতে ৯ জন এবং এইচডিইউতে ৭ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১২ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ জন। হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে ৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

