জেলা প্রতিনিধিঃ
বুধবার সকালে প্রেমিক হৃদয় গমেজের মা স্থানীয় ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে যান জমি রেজিস্ট্রি করতে। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে ডেকে আনেন প্রেমিকা ইভানা রোজারিওকে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রেমিক হৃদয়ের মা বাড়ি ফিরেন এবং এসে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। পরে জানালা দিয়ে দেখেন ঘরের মেঝেতে দু’জনের লাশ পড়ে আছে।
প্রেমিকের মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ওই প্রেমিক প্রেমিকার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপতালে প্রেরণ করা হয়। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউপির সাতানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আনিসুর রহমার।
নিহত হৃদয় গমেজ উপজেলার বক্তারপুর ইউপির সাতানীপাড়া গ্রামের মৃত সমর গমেজের ছেলে। ইভানা একই উপজেলার তুমলিয়া ইউপির বান্দাখোলা গ্রামের স্বপন রোজারিওর মেয়ে।
ওসি জানান, সকালে হৃদয়ের মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে কোনো সময় প্রেমিকা ইভানাকে বাড়ি ডেকে আনেন। পরে সকাল থেকে সন্ধ্যা এর যেকোনো সময় প্রেমিকাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা শেষে হৃদয় নিজেই নিজের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করেন।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে দেয়াল টপকে ঘরে প্রবেশ করে দু’জনের লাশ উদ্ধার করি। এ সময় প্রেমিক হৃদয়ের পেটে ছুরিকাঘাত ও হাতে ছুরি ছিল এবং প্রেমিকা ইভানার গলায় ছুরিকাঘাত ছিল। ঘরের মেঝেতে প্রেমিকার ওপর প্রেমিকের লাশ পরে ছিল। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যা পরিবার মেনে নেয়নি বলে হতে পারে সেই অভিমানে দু’জনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ওসি আনিসুর রহমান আরো বলেন, দুটি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।
