বলাৎকারে বাধা দেয়ায় শিশুকে হত্যা,৯ মাস পর আসামী গ্রেফতার - সময় সংবাদ | Popular Bangla News Portal

Breaking

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৮, ২০২১

বলাৎকারে বাধা দেয়ায় শিশুকে হত্যা,৯ মাস পর আসামী গ্রেফতার


 


জেলা প্রতিনিধিঃ



খুলনায় মাদরাসাছাত্র তামিম মোল্লাকে হত্যার প্রায় ৯ মাস পর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদঘাটিত হয়েছে হত্যার রহস্য। বলাৎকারে বাধা দেওয়ায় শিশুটিকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন ওবাইদুল্লাহ ওরফে ওবাই।

বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা জেলা ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।


তিনি জানান, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার শিশু তামিম মোল্লা হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর আসামি ওবাইদুল্লাহ ওরফে ওবাই শেখকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় দিঘলিয়ার লাখোহাটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওবাই শেখ। বলাৎকার করতে বাধা দেওয়ায় পানিতে চুবিয়ে তামিমকে হত্যা করা হয়। পরে তামিমের জামা-কাপড় দিয়ে হাত-পা বেঁধে মরদেহ বিলের মধ্যে ফেলে দেন। খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।


গ্রেফতার ওবাইদুল্লাহ ওরফে ওবাই শেখ দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামের আসলাম শেখের ছেলে। অন্যদিকে শিশু তামিম একই গ্রামের তরিকুল মোল্লার ছেলে।






















মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই খুলনার পুলিশ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বিশ্বাস জানান, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শিশু তামিম মোল্লা মাদরাসায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ৮টায় তামিম ফিরে না আসায় তামিমের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেন। পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি লাখোহাটি গ্রামের গোয়ালাবাদ বিলের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তামিমের মরদেহ পাওয়া যায়।


এ ঘটনায় তামিমের মা জাহানারা বেগম কলি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। দিঘলিয়া থানা পুলিশ ওই সময় দুইজনকে আটক করলেও মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। থানা পুলিশের তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।


পুলিশ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বিশ্বাস আরো জানান, পিবিআই দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুসন্ধান চালিয়ে ওবায়দুল্লাহ ওরফে ওবাইকে গত ১৬ নভেম্বর গ্রেফতার করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওবাই শেখ জানিয়েছেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওবাই ও শিশুরা স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছিলো। খেলার একপর্যায়ে একজন ঢিল ছুঁড়লে ওবাই তাকে ধরতে বিলের দিকে দৌঁড় দেন। শিশু তামিমও তার পিছু পিছু যায়। সেখানে গিয়ে ওবাই শেখ তামিমকে বলাৎকারের চেষ্টা চালান। তামিম চিৎকার করলে ওবাই শেখ বিলের মধ্যে তামিমকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে মরদেহের মুখের মধ্যে কলাপাতা ঢুকিয়ে গায়ে থাকা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ডোবায় ফেলে দেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওবাই জানিয়েছেন, এর আগে ৩টি ছাগলের সঙ্গে বলাৎকার করে সেগুলো পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলেছিল।

Post Top Ad

Responsive Ads Here