কবির হোসেন, রাজবাড়ীঃ
আমার চা’দোকান ভাইঙ্গা দিলে কহানে যাবো ,এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন দীর্ঘ দীর্ঘ ২৭ বছর এই নদীর পাড়ে স্থাপনা করে চা বিক্রেতা শুকুর আলী। রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রুপসা নদীর পাড়ে সুইচ গেইট সংলগ্ন রেগুলেটর রিপেয়ারিং এর কাজ করা হবে। সাত দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ করা হবে অবৈধ স্থাপনা। আর এ নোটিশ পেয়েই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে চা’বিক্রেতা শুকুর আলী সহ ১২-১৩ জন দিন মজুরের।
রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার রূপসা নদীর পাড়ে দীর্ঘ ত্রিশ বছর স্থাপনা নির্মান করে জীবিকা নির্বাহকারীরা হটাত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ নোটিশ পেয়ে আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।
গত ২৪ জানুয়ারি রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমান অংকুর স্বাক্ষরিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নোটিশ ১৩ জনকে প্রদান করা হয়।
চা,সিঙ্গারা বিক্রেতা সহ নিম্ন আয়ের মানুষ যারা জীবনের সম্বলটুকু দিয়ে নদীর পাড়ে স্থাপনা নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে তারা হটাত এ নোটিশ পেয়ে দিকবেদিক হয়ে পড়েছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আরিফুর রহমান অংকুর জানান, রুপসা সুইচ গেইট রিপেয়ারিং এর কাজ করার জন্য অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, রুপসা সুইচগেইট এর রেগুলেটর রিপেয়ারিং এর কাজ জাকাউল্লাহ এন্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন বাস্তবায়ন করছে । ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া কাজের শেষ হবে ২২সালের মার্চ মাসে। তিন কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যায়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রাজাপুর বেলগাছিতে ৮ব্যান্ট রেগুলেটর এর কাজ হবে আর রূপসা নদীর পাশে ১ব্যান্ট এর রেগুলেটর এর কাজ করা হবে। কিন্ত ভিডিওতে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হন নি।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসীন্দাদের সাথে।
চা বিক্রেতা শুকুর আলী জানান, দীর্ঘ ২৭ বছর এই নদীর পাড়ে আমার শেষ সম্বল টুকু দিয়ে একটি ঘর নির্মান করে এখানে চা বিক্রি করে খাই। আমার সংসারে ৫জনের জীবিকা নির্বাহ করি এই দোকানের মাধ্যমে। হটাত আমাকে সাত দিনের মধ্যে উচ্ছেদ এর নোটিশ দিয়েছে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখন আমি কোথায় যাবো। কার কাছে যাবো আমার যে মাথা গোজার ঠাই নাই।
সিঙ্গারা বিক্রেতা কুদ্দুস শেখ জানান, আমার এক মাত্র সম্বল এ ঘরটা ।এখানে পুরি সিঙ্গারা বিক্রি করে দিন সংসার চলে আমাদেরে। কিন্ত সাত দিনের মধ্যে আমার এ ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে । আমার যাওয়ার যায়গা নাই, আমি কই যাবো।
সিঙ্গারা বিক্রেতা শুশান্ত জানান, সিঙ্গারা বিক্রি করে আমার সংসার চলে ।এখন আমাদের অন্য যায়গায় চলেযেতে হবে আমরা এখন কোথায় যাবো। আমাদের সংসার কেমন করে চলবে। আমাদের পেটে লাথি দিলে আমরা কি খেয়ে বাচবো।
এমন করে ১৩জনের কাছে দেওয়া হয়েছে অবৈধ উচ্ছেদ নোটিশ আর উচ্ছেদ আতংকের রয়েছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রুপসা বাজারের সভাপতি আক্কাস জানান, আমাদেরকে সাত দিনের মধ্যে উছেদের নোটিশ দিয়েছে আমার কোথায় যাবো । সরকারের কাছে দাবী জানাই যেন আমাদের উচ্ছেদ না করে কাজ করা হোক।
বাজারের সাধারণ সম্পাদক লুতফর রহমান জানান, হটাত করেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ নোটিশে আমাদের বাজারের নিম্ন আয়ের মানুষেরা আতঙ্কে রয়েছে। এ মানুষ গুলোর স্থাপনা উচ্ছেদ করলে তারা বেকার হয়ে পরবে। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের কাছে দাবী জানাই যেন এক কাজ স্থাপনা রেখেই সম্পন্ন করা হোক।
মোঃসাইফুল্লাহ /সময় সংবাদ


