
বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিম্নমুখী;সমাধান কোথায় | সময় সংবাদ
ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী:
বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিম্নমুখী হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমেও পানির স্তর পূর্বের স্থানে উঠে আসছে না। ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে প্রতিদিন ৯৫ হাজার ঘনমিটার পানি তুলছে রাজশাহী ওয়াসা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পানি বিশেষজ্ঞ চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল জানান, খাদ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বরেন্দ্র অঞ্চলে অধিক পরিমাণ ধান চাষ হচ্ছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। যার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিম্নমুখী হচ্ছে। জাতীয় বৃষ্টিপাতের গড় ২ হাজার ৫০০ মিলিমিটার। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১ হাজার ২০০ মিলিমিটার বা কোনো কোনো এলাকায় তারও কম বৃষ্টিপাত হয়। এ কারণে চাষাবাদের প্রয়োজনে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই পরিমাণ পানি আর বর্ষা মৌসুমে ওপরে উঠছে না। ফলে পানির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা পানির নীতি ২০১৩ এবং পানিবিধি ২০১৮ বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে। কিন্তু পানির স্তর দ্রুত নিম্নগামী হচ্ছে।এ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা দরকার। তাহলে আগামী ১০০ বছরের জন্য যে বেঙ্গল ডেলটা প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে প্রতিদিন ৯৫ হাজার ঘনমিটার পানি তুলছে রাজশাহী ওয়াসা। রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ১১ লাখ ১৩ হাজার ২৯০ ঘনমিটার। এর বিপরীতে ওয়াসা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে ১০৮টি গভীর নলকূপ দিয়ে দৈনিক তুলছে ৯৫ হাজার ঘনমিটার পানি। শুধু বর্ষা-পরবর্তী ০৪ মাস (আগস্ট-নভেম্বর) পদ্মা থেকে দৈনিক ৬ থেকে ৯ মিলিয়ন লিটার পানি পাওয়া যায়। এ ছাড়া মৌসুমজুড়েই নির্ভর করতে হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, ভূ-গর্ভস্থ পানি ছাড়া রাজশাহীতে এখনও বিকল্প কোনো পানির উৎস নেই। এ কারণে অতিমাত্রায় ধাতব পদার্থ পাওয়া গেলেও পানি তোলা হচ্ছে ওই ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকেই। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াসহ পরিবেশের জন্যও হুমকি দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত পানি তোলার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তবে কয়েক বছর বেশি বৃষ্টি হওয়ায় রিচার্জও হচ্ছে। নিরাপদ খাবার পানির চাহিদা মেটাতে হলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। এ কারণেই ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে জোর দেওয়া উচিত।
বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে চীনের সঙ্গে প্রায় ০৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধূ ঋণ চুক্তির। আগামী তবে মাসের মধ্যে ঋণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরই কাজ শুরু হবে। এর মাধ্যমে ০৪ বছরের মধ্যে নগরবাসীকে পদ্মার সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ।
