সাকুরা পরিবহনে প্রবাসীর মোবাইল-টাকা জোড় করে নিয়ে গেল হিজড়া বাহিনী | সময় সংবাদ
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি:
কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সালাউদ্দিন মৃধা (৪৫) নামের সাকুরা পরিবহনে কুয়েত প্রবাসী এক যাত্রীর কাছ থেকে একটি স্যামসাং মোবাইল (এম-৩১) ও নদগ ৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে হিজড়া বাহিনী। এসময় তাকে শাররীকভাবে নির্যাতন ও লাি ত করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় ঢাকা সাভার নবীনগরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি কুয়েত প্রবাসী সালাউদ্দিন ফেসবুকে লাইভ করলে ব্যাপক ভাইরাল হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কলাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রবাসী সালাউদ্দিন মৃধা এ প্রতিনিধিকে জানায়, সোমবার তিনি কুয়েত থেকে ঢাকা এসে পৌছে মিরপুর এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাত্রি যাপন করে সকালে টেকনিক্যাল মোড় থেকে সাকুরা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-১১-৪৮০৫) (বি-২) সিটের টিকিট ক্রয় করে সকাল আটটায় সেখান থেকে নিজ বাড়ি কলাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময় গাবতলী এসে পৌছলে এক হিজড়া গাড়িতে উঠে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন এবং তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে ১ শ‘ টাকা দিয়ে দেন। পরে সভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছলে দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৭ জন হিজড়া গাড়িতে উঠে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা এবং কুয়েতের দিনার দাবি করেন। এসময় তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হিজড়ারা তাকে শাররীকভাবে লাি ত করে এবং তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ও একটি স্যামসাং মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। ওই প্রবাসী গাড়ীর সুপারভাইজার ও ড্রাইভারের কাছে বেশ কয়েকবার সাহায্য চাইলেও তারা তাকে সাহায্য করেনি। বরং তাকে গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলেন। ওই প্রবাসীর দাবি, গাড়ির ড্রাইভার ও সুপারভাইজারের যোগ সাজসেই হিজড়ারা এ কান্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার সময় গাড়ির অন্যান্য যাত্রীরা হিজড়াদের ভয়ে চুপচাপ ছিলো। এ ঘটনাটি ওই প্রবাসী তার ফেসবুক আইডিতে লাইভ করলে কমেন্টে নিন্দার ঝড় ওঠে।
সালাউদ্দিন আরো জানান, তাকে যে অপমান-অপদস্ত করা হয়েছে তিনি কতৃপক্ষের কাছে এর বিচার দাবি করেন। যাতে আর কোনো প্রবাসী এ ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে তাদেরকে খেয়াল রাখার অনুরোধ করেন।
সাকুরা পরিবহনের গাড়ির সুপারভাইজার শামীম এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই যাত্রীর টাকা পয়সা হিজড়ারা যখন ছিনিয়ে নিয়েছে তখন তিনি নবীনগরের কাউন্টারে ছিলেন। বাসের ড্রাইভার রাকিব বলেন, প্রতিনিয়ত প্রত্যেকটা গাড়িতেই হিজড়ারা উঠে এভাবে চাঁদাবাজি করে। বিদেশী কোন যাত্রী পেলে তাদেরকে অনেক হয়রানি করে। যখন তাকে বেশি হয়রানি করছিলো তখন আমি হিজড়াদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি।
সাকুরা পরিবহনের প্রধান হিসাব রক্ষক মো: শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, হিজড়াদের কাছে আসলেই আমরা সবসময় অসহায় বোধ করি। পুলিশের সামনে বসেই হিজড়ারা এ ধরনের কান্ড ঘটায়। আমরাও এর প্রতিকার চাই।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জসিম গনমাধ্যমকে বলেন , এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
